ভারতের কেরালায় ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক এলাকায় আকস্মিক হড়পা বান ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবার পাওয়া গেছে।
রবিবারের এই দুর্যোগে এখনও অন্তত দুজন নিখোঁজ আছেন। তাদের খোঁজে উদ্ধারকাজ চলছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যের মালাপ্পুরম জেলার নীলাম্বুর ও আমরাম্বালম এলাকায়। সেখানে কোট্টাপুঝা নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘুরতে আসা পাঁচজনের একটি দল নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা একজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নদী থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এই ঘটনায় নিখোঁজ বাকি দুইজনকে উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি চলছে।
রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় কোট্টাপুঝা নদীর আশপাশে বহু পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীর সমাগম হয়েছিল। দূরের পাহাড়ি ও জঙ্গল এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে নদীর পানি মুহূর্তেই বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে নদীর পাড়ে থাকা মানুষজন সতর্ক হওয়ার আগেই বিপদের মুখে পড়েন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় নদী এলাকা থেকে প্রায় ২৭ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
এদিকে ইডুক্কি জেলার কোট্টাকাম্বুরে প্রবল বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি ও পাথর ধসে একটি অস্থায়ী কৃষিঘর চাপা পড়ে। এই দুর্ঘটনায় বালাকৃষ্ণন ও চিন্নু নামের দুই ভাই-বোনের ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয়। তাদের সঙ্গে থাকা মারিয়াম্মা নামের এক নারীও গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ ও টানা বৃষ্টির কারণে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়।
অন্য এক দুর্ঘটনায় কোট্টায়াম জেলার ভেলাথুসেরি এলাকায় পাহাড়ি পথ থেকে কাদামাটি ধসে সঙ্গীতা অরুল লাল নামের এক নারী মারা গেছেন। তিনি মূলত তামিলনাড়ুর বাসিন্দা ছিলেন। ভ্যাগামন এলাকা থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজ্যের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন পরিস্থিতি প্রতি ঘণ্টায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। ইডুক্কি ও কোট্টায়াম জেলার প্রশাসনকে প্রয়োজনে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নীলাম্বুর-আমরাম্বালম এলাকায় বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া মালাপ্পুরম এলাকায় জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনায় বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি বাসিন্দাদের মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে, ভারতীয় আবহাওয়া দফতর কেরলার একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ইডুক্কি ও কোট্টায়ামের সতর্কতা হলুদ থেকে কমলা করা হয়েছে। যার অর্থ খুব ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে ভূমিধস ও হড়পা বান নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে।