আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এ হামলার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, কুনার প্রদেশে একটি বাড়িতে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
দুই দেশের সম্পর্ক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তেজনাপূর্ণ। ওই সময় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ হয়। দুই দেশের বিরোধের অন্যতম কারণ পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটিতে আন্তসীমান্ত হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানের জঙ্গি সমস্যা দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়।
সোমবারের বিমান হামলার কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ স্থাপনায় হামলা হয়। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হন।
এর আগে জুলাইয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের দিকে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তান তখন দাবি করেছিল, তাদের বাহিনী ওই ড্রোনগুলো শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে।
দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটে মার্চে। সে সময় কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার দাবি করেছিল আফগান তালেবান। হামলায় একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করে তারা। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী অবকাঠামোতে ‘সুনির্দিষ্টভাবে’ হামলা চালিয়েছে।