ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে দুজনই এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন। তবে একই সময়ে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘সম্ভবত’ এতে আগ্রহী।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার জন্য কয়েকটি শর্ত জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড় এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
কাতার, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারিও জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে দোহার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখনো পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সামনে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো বিকল্প রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। কোনো নতুন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও স্বার্থে ‘ব্যথাদায়ক’ পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। সেখানে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশের অর্থ এখনই কোনো চুক্তি বা বৈঠক নিশ্চিত হওয়া নয়। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি আলোচনার শর্তও সামনে আসছে। জাতিসংঘের অধিবেশন সেই পরিস্থিতিতে সরাসরি যোগাযোগের একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করেছে।