ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে দেশটির উত্তরপ্রদেশের আমেথি আসন থেকে নির্বাচনে লড়বেন কংগ্রেস নেতা রাহুল। বুধবার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন উত্তর প্রদেশের কংগ্রেসের জেলা সভাপতি প্রদীপ সিংঘল। সম্প্রতি দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রদীপ। এরপরই এদিন তিনি জানান, আমেথি থেকে কংগ্রেসের টিকিটে রাহুলই প্রার্থী হচ্ছেন এবং খুব শিগগিরই তার নামটি ঘোষণা করা হবে। ১৯৬৭ সালে 'আমেথি' লোকসভার কেন্দ্র হিসেবে গঠন হওয়ার পর থেকেই কংগ্রেসের কাছে শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল। ১৯৭৭ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীর ছোট পুত্র সঞ্জয় গান্ধী প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও হারতে হয়েছিল সঞ্জয়কে। যদিও ১৯৮০ সালে ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সঞ্জয়। কিন্তু ১৯৮১ সালে প্লেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তার বড় ভাই রাজীব গান্ধী রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং ওই বছরেই আমেথি থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন রাজীব। এরপর ১৯৮৪, ১৯৮৯ এবং ১৯৯১ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ওই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন রাজীব গান্ধী। ১৯৯৯ সালে আমেথি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী। ২০০৪ সালে তিনি 'আমেথি'র বদলে উত্তরপ্রদেশের 'রায়বেরেলি' কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন। এরপর সোনিয়ার ছেড়ে যাওয়া আসনে আমেথি কেন্দ্র থেকে লড়াই করে আসছেন পুত্র রাহুল গান্ধী। ২০০৪ সাল থেকে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন রাহুল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে এক লাখেরও বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু শেষবার ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আমেথি কেন্দ্রে স্মৃতি ইরানির কাছে ৫৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান রাহুল। যদিও গত নির্বাচনে আমেথির পাশাপাশি কেরলের 'ওয়েনাড' কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রাহুল। সিপিআই প্রার্থী পিপি সুনিরকে ৪ লাখ ৩১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।