পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ওহাইও অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নাম বদলে তিনি এটি ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই ভাষণে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ এই নেতার মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ওহাইওর ওই সমাবেশে উপস্থিত অনুসারীদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় আমরা হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প প্রণালি করতে যাচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে আমেরিকা উপসাগর করেছি। তাই এখন কোনো একপর্যায়ে এই প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প প্রণালি রাখা যেতেই পারে।
নিজের এই পরিকল্পনাকে কোনো হালকা রসিকতা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখন একটা উপসাগর আছে, একটা হ্রদ রয়েছে, এবার হয়তো একটি প্রণালিও থাকবে। আমাদের এই পদক্ষেপে অনেকে হয়তো ভাবছেন আমি মজা করছি। তবে আপনারা তো জানেন, যখন আমি মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে আমেরিকা উপসাগর করার কথা বলেছিলাম, তখনও সবাই একে বেশ মজাদার বিষয় মনে করে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। অহেতুক নানা কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দিনশেষে আমি ঠিকই বলেছি যে, না, আমি সত্যিই এটি করে দেখাব।
সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল এই প্রণালির নামকরণের প্রস্তাব দিয়েই ক্ষান্ত হননি বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক তেল বাজারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি টেনে তিনি জানান, বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে সাত মাস আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বের হচ্ছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী জানান, এই সংকট কেটে যাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর দাম এবং সাধারণ পেট্রল-গ্যাসোলাইনের মূল্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে ও বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন মসনদে বসার পর থেকে ভূগোলের বিভিন্ন স্থান ও জলাশয়ের ঐতিহ্যবাহী নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক পদক্ষেপে অংশ নিয়েছেন। ইতিপূর্বে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে তিনি উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত মেক্সিকো উপসাগর এবং লেক অন্টারিওর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে যথাক্রমে 'আমেরিকা উপসাগর' ও 'আমেরিকা হ্রদ' হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।