গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে কোনও রাজনৈতিক দলই সরকার গঠনে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছেন। কিন্তু তারপরও সরকার গঠন করতে পারছে না দলটি। এই পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে এক অস্থিরতা। তবে জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নওয়াজ শরিফের দল পিএলএম-এন। তবে নওয়াজ শরিফ নন, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তার ছোট ভাই শেহবাজ শরিফ। কিন্তু কেন? গত দশকের মাঝপথে দুর্নীতির মামলায় আজীবন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত হয়ে ব্রিটেনে পাড়ি জমান পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় সর্বমহলের কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার ছিল, নওয়াজকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া। তবে ভোটে ইমরানপন্থীদের অবিস্মরণীয় জয়ের পর জোট রাজনীতির ঘটনাপ্রবাহে নিজেকে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড় থেকে সরিয়ে নিয়েছেন নওয়াজ। আর এর পেছনের কারণ খুঁজতে নানা সমীকরণ মিলিয়ে দেখছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটে হারানোর পর জোট সরকারের নেতৃত্ব দেন নওয়াজের ভাই শেহবাজ শরিফ। ভাইয়ের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে ভোটের ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নানা সময় তিনি বলেছেন, পিএমএল-এন-এর প্রধান নওয়াজ শরিফকে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন তিনি। এই নির্বাচনে ইমরানপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৯৩ আসনে জয় পেলেও দল হিসেবে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া পিএমএল-এন সরকার গঠনে ভুট্টো পরিবারের পিপলস পার্টির (পিপিপি) দ্বারস্থ হয়েছে, যারা পেয়েছে ৫৪ আসন। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে মুসলিম লীগ-কায়েদে আজম (পিএমএল-কিউ) প্রধান চৌধুরী সুজাতের বাসভবনে মিলিত হন শেহবাজ, পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলি জারদারিসহ এমকিউএম-পি, আইপিপি ও অন্যান্য দলের নেতারা। পরে সংবাদ সম্মেলনে জোট সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই নওয়াজকন্যা মরিয়ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, শেহবাজ হচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি হচ্ছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। নওয়াজ তাদের পর্দার আড়াল থেকে নির্দেশনা দেবেন। কেন নওয়াজ শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেন— বিষয়টি ব্যাখা করতে গিয়ে পাকিস্তানি সাংবাদিক রিজওয়ান শেহজাদ বলেন, “নির্বাচনী রায়ের বিভক্তি, শেষ মুহূর্তে তার ভাই শেহবাজের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেকে নতুন একটি রাজনৈতিক ভূমিকায় দেখা ছাড়া বিকল্প কিছু খুঁজে পাননি নওয়াজ শরিফ।” নওয়াজের নিজের অবস্থানের ব্যাপারটি কেমন— এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মেয়ে মরিয়ম। তিনি বলেন, “নওয়াজ দলের ‘নির্বাচক’ বা ‘মনোনয়নকারীর’ ভূমিকায় থাকবেন, যিনি পর্দার আড়াল থেকে ভূমিকা রাখবেন।”