নওয়াজ বিলাওয়াল দুই ভাগে প্রধানমন্ত্রী!
নওয়াজ বিলাওয়াল দুই ভাগে প্রধানমন্ত্রী!
Ajker highlights
প্রকাশ:
নির্বাচনের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক পক্ষগুলো সমীকরণের পর সমীকরণ আর সুযোগ-সুবিধা ও পদ-পদবির টোপ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এমনকি কারারুদ্ধ সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিটিআই দলের প্রধান ইমরান খান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভিতরও ‘টোপের লোভ’ পেয়ে বসেছে। ফলে প্রায় ডজনখানেক প্রার্থী এরই মধ্যে ইমরানের পক্ষ ছেড়ে নওয়াজ শরিফের পক্ষে চলে গেছেন। অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সমঝোতার পথে অনেক দূর এগিয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। তারা একটি পালাক্রমের সরকার গঠনে প্রায় একমত। অর্থাৎ পাঁচ বছর মেয়াদকালের নতুন সরকারে তারা আড়াই বছর করে একে-অপরে সরকার চালানোর বিষয় নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছার চেষ্টা করছে। সূত্র : জিও নিউজ, ডন, রয়টার্স, আলজাজিরা, এনডিটিভি প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে দেশটির জন্য জোট সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জোট সরকার গঠন নিয়ে নওয়াজ শরিফ ও বিলাওয়াল ভুট্টোর দল সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। তারা ক্ষমতার ভাগাভাগিতে সমঝোতার চেষ্টা করছে। তবে কোনো পক্ষই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী যিনিই হন না কেন, আগামী দিনগুলোয় জাতীয় পরিষদে ১৬৯ জন সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে হবে তাকে। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের ফল অনুসারে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন এবারের নির্বাচনে ৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পিপিপি পেয়েছে ৫৪টি আসন। অর্থাৎ এই দুই-এ মিলে আসন সংখ্যা হচ্ছে ১২৯। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ৪০ আসন। এ কারণে তারা সুযোগ-সুবিধা ও পদ-পদবির টোপ দিয়ে স্বতন্ত্র এবং অন্য দলগুলোকে সঙ্গে আনার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ধারণা পাওয়া গেছে, নওয়াজ-বিলাওয়াল জোট সরকারে যুক্ত হতে পারে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি), জেইউআইএফসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। জোট গড়ার ক্ষেত্রে বিলাওয়ালকে সরকারপ্রধানের পদে বসানোর কৌশল বেছে নিয়েছে পিপিপি। এ নিয়েই দলটি পিএমএল-এনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পাওয়ার শেয়ারিং ফর্মুলা বা ক্ষমতা ভাগাভাগি সূত্রের অধীনে ক্ষমতায় বসা নিয়ে আলোচনা করছে উভয় দল। এই সূত্রের আওতায় পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক সময়ের জন্য পিপিপি এবং বাকি অর্ধেক সময়ের জন্য পিএমএল-এন তাদের দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। এই সম্ভাবনা নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে। এ আলোচনার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্রের মতে, ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর কেন্দ্র ও প্রদেশে জোট সরকার গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত রবিবার লাহোরে প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসেন পিপিপি ও পিএমএল-এন নেতারা। এ সময়ই অর্ধেক মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ধারণাটি প্রথমবার আলোচনা করা হয়েছিল। বিলাওয়াল হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষই সাধারণ নির্বাচনের পর দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়। বৈঠকে পিপিপির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এবং পিএমএল-এনের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় দলের নেতারাই দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং উন্নতির জন্য সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।