পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে কারারুদ্ধ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর দলের নেতারা এক তৃতীয়াংশ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার দাবি করলেও নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফলে ভিন্ন অবস্থান দেখিয়েছে। ভোট গ্রহণের তিন দিন পর গতকাল ঘোষণা করা ফলাফলে দেখানো হয়েছে ইমরান সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১০১ আসনে, নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন ৭৫ আসনে, বিলওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ আসনে ও মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম) ১৭ আসনে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ১৭টি আসন। এ ফল অনুযায়ী ইমরান খান এবং নওয়াজ শরিফ নির্বাচনি খেলায় সুপার ওভারে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য কোনো পক্ষেরই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন নেই। এ অবস্থায় স্বতন্ত্র সদস্যদের ভেড়াতে অর্থ লেনদেনসহ লোভনীয় অফারের অভিযোগও উঠেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ অবস্থায় সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখন পুরো মারপ্যাচের মুখে পড়ে গেছে। সূত্র : আলজাজিরা, জিও নিউজ, ডন, এনডিটিভি, বিবিসি, রয়টার্স। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে ২৬৫ আসনে (একটি স্থগিত) গত বৃহস্পতিবার ভোট হয়েছে। একটি আসনে ফল স্থগিত থাকার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে গতকাল ২৬৪ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৩৪ আসন। প্রসঙ্গত, জাতীয় পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৩৩৬। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। বাকি ৭০টি আসন সংরক্ষিত। এসব আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের ও ১০টি সংখ্যালঘুদের। এদিকে এ ফল অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য ইমরান খানের প্রয়োজন আরও ৩৩ আসনের সমর্থন, আর নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন-এর জন্য প্রয়োজন ৫৯ আসনের সমর্থন। আবার বিলওয়াল ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির এক্ষেত্রে প্রয়োজন আরও ৮০ আসনের সমর্থন। অর্থাৎ সরকার গঠনে জোটের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে জোর চেষ্টা করছে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন। তারা বিলওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টির সমর্থন প্রাপ্তির জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পিপিপি এরই মধ্যে এ সমর্থনের শর্ত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করে বসেছে। এ নিয়ে চলছে সব পক্ষের মধ্যে এক ধরনের মারপ্যাচের খেলা। অভিযোগ আছে, এসবের নেপথ্যে ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী। কোনো কোনো পর্যবেক্ষকের মতে, তুরুপের তাস এখন তাদের হাতেই। এদিকে আরেকটি সমস্যা রয়েছে। তা হলো পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলে কোনো সরকার গঠন করতে পারেন না। জাতীয় পরিষদে সংরক্ষিত ৭০ আসনে কোনো সদস্যও দিতে পারেন না তারা। সরকারে থাকতে হলেও তাদের কোনো দলে যোগ দিতে হয়। এ জন্য নির্বাচনে জয়ের পর ৭২ ঘণ্টা সময় পান তারা। তবে এসব নির্বাচিত এমপির কোনো নিবন্ধিত দল না থাকায় তারা এখন নির্দিষ্ট কোনো দলেও যোগ দিতে পারছেন না। এক মঞ্চে আনার চেষ্টা যেমন চলছে, তেমন প্রধান প্রধান পক্ষগুলো ‘সুযোগ-সুবিধার’ টোপ দিয়ে তাদের নিজ নিজ পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এদিকে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের পর ইমরান খানের উপদেষ্টা জুলফি বুখারি বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার দলের পক্ষ থেকে একটি মঞ্চ ঘোষণা করা হবে। তারপর সেই মঞ্চে সব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে যোগ দিতে বলা হবে।