মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের বড় ধরনের হামলার পর সরবরাহ সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১টা ৭ মিনিটে (বাংলায় দেশ সময় সকাল ৭টা ৭ মিনিট) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়ায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বহুল ব্যবহৃত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের মজুত কমতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে।
তেলের পূর্বাভাস বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ও আগামী বছরের তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)।
বুধবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানায়, চলতি বছর বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের গড় স্পট মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯১ ডলার হতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের গড় দাম চলতি বছর ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৫ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইআইএ। আগের অনুমানের তুলনায় এটিও প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
ইআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমছে। সরবরাহের এই ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।
তবে ইআইএ’র সর্বশেষ পূর্বাভাসটি ৩ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অর্থাৎ, এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যে সর্বশেষ উত্তেজনা ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার প্রভাব এই পূর্বাভাসে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে কিংবা তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইআইএ’র বর্তমান পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজারেই নয়, পরিবহন ব্যয়, জ্বালানি মূল্য এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।