বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির বিদ্যমান দৃষ্টিভঙ্গি যথাযথ নয়: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম
বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির বিদ্যমান দৃষ্টিভঙ্গি যথাযথ নয়: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম
Ajker highlights
প্রকাশ:
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্তমানে যে দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে, তা যথাযথ নয় বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। সম্প্রতি ‘ফিউচার অব গ্রোথ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে নতুন এক প্রবৃদ্ধির কাঠামোর প্রস্তাব করেছে ডব্লিউইএফ। প্রস্তাবিত কাঠামোতে চারটি মুখ্য বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হল-উদ্ভাবন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন ও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে কোভিড সংক্রমণের পর থেকে একের পর এক ঘাত–প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। এসব কারণে অর্থনীতি গতি হারিয়ে ফেলেছে। কোভিডের প্রভাব কাটতে না কাটতেই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়, প্রতিনিয়ত যার পরিসর বাড়ছে। সেই সঙ্গে আর্থিক ও পরিবেশগত নানা সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি একরকম স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই বাস্তবতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম মনে করছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্তমানে যে দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে, তা যথাযথ নয়। ডব্লিউইএফ বলছে, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লাগানো জরুরি। তবে এ জন্য তারা স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পক্ষপাতী নয়। সংস্থাটি বলছে, যেকোনো মূল্যে স্বল্প মেয়াদে প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে গেলে পরিবেশের ক্ষতি হয় ও অসমতা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া স্বল্প মেয়াদে প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে গেলে সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতাও বিনষ্ট হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানো দরকার কি না, সেটি প্রশ্ন নয়; বরং প্রশ্ন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধির অন্তর্নিহিত প্রকৃতি অর্থনীতির অন্যান্য অগ্রাধিকার আমলে নিতে পারে কি না, সেটি। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতি ডব্লিউইএফের প্রস্তাবিত উদ্ভাবনী, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতাসম্পন্ন প্রবৃদ্ধি থেকে এখনো অনেক দূরে। বিশ্ব অর্থনীতি এই পথ কেবল অর্ধেক পাড়ি দিয়েছে। ডব্লিউইএফ চারটি ভিতের ওপর শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত নম্বরের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির মূল্যায়ন করেছে। সেখানে দেখা গেছে, উদ্ভাবনের নিরিখে বিশ্ব অর্থনীতি পেয়েছে ৪৫ দশমিক ২; অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পেয়েছে ৫৫ দশমিক ৯; টেকসই উন্নয়নে ৪৬ দশমিক ৮ আর ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার ক্ষেত্রে ৫২ দশমিক ৮।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।