ভারত তাদের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। এখন থেকে রেস্তোরাঁ, হোটেল ও খাদ্য কারখানায় ব্যবহৃত রান্নার তেল সংগ্রহ করে তা থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের জৈব জ্বালানি তৈরি করবে দেশটি। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ এই ব্যবহৃত তেল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ে। এই চাপ সামলাতেই সরকার কৃষি, শিল্প ও শহরের নানা বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই ভারত ছেড়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোতে অন্তত ১ শতাংশ ‘টেকসই বিমান জ্বালানি’ বা এসএএফ (SAF) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি সড়ক পরিবহনেও বায়োডিজেলের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
ভারতের এসএএফ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন ব্যবহৃত রান্নার তেল উৎপাদিত হয়। তবে এর মাত্র ৫ শতাংশ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। বাকি বিপুল পরিমাণ পোড়া তেল পুনরায় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, যা বেআইনি এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এই তেল সংগ্রহের সবচেয়ে বড় বাধা হলো গুছানো কোনো সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকা। উদাহরণস্বরূপ, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে সংগ্রাহকেরা ছোট ছোট পাত্র নিয়ে তিন চাকার যানে (অটোরিকশা বা ভ্যান) করে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করেন। এরপর তা নির্দিষ্ট ডিপোতে জমা করে পরিশোধন ও জ্বালানি তৈরির জন্য পাঠানো হয়।
তবে এই উদ্যোগে জালিয়াতির একটি বড় ঝুঁকিও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক সময় নতুন তেলের চেয়ে ব্যবহৃত রান্নার তেলের দাম বেশি থাকে। ফলে বেশি লাভের আশায় ব্যবহৃত তেলের সঙ্গে নতুন তেল মিশিয়ে বিক্রির মতো প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে সংগৃহীত তেলের মান যাচাই ও উৎস নজরদারির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
বিশ্বজুড়েই এখন পরিবেশবান্ধব টেকসই বিমান জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। ভারতের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াও ব্যবহৃত রান্নার তেল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নিজেদের তৎপরতা বাড়িয়েছে।