কাটছেই না ডলার সংকট
কাটছেই না ডলার সংকট
Ajker highlights
প্রকাশ:
কোনোভাবেই কাটছে না ডলার সংকট। দর নিয়ন্ত্রণ, আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ এবং কার্ডের মাধ্যমে দেশের বাইরে নগদ অর্থ উত্তোলন বন্ধসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরও এ সংকটাবস্থা দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত আড়াই বছরে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করলেও সংকট আরও বেড়েছে। সে কারণে চাপ বেড়েছে ব্যবসায়। সময়মতো খোলা যাচ্ছে না এলসি। দাম বেড়েছে নিত্যপণ্যসহ আমদানি করা সব পণ্যের। বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও দেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডলার সংকটের কারণে এলসি (ঋণপত্র) খোলায় সমস্যা হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে এলসি (ঋণপত্র) খোলার জন্য ডলার মিলছে না। জ্বালানি সংকট রয়েছে, শিল্পের জন্য চাহিদামতো গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু বেঙ্গল গ্রুপই নয়, দেশের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক বলেছেন, ডলার সংকটের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট তো রয়েছেই। অবিলম্বে ডলার সংকট সমাধান না করলে বন্ধ হয়ে যাবে অনেক শিল্পকারখানা। হুমকিতে পড়বে কর্মসংস্থান। বেকার হবে হাজার হাজার শ্রমিক। দেশে ডলার সংকট চলছে দুই বছর ধরে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মূলত এ সংকট তৈরি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তখনই বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। রপ্তানিকারকরা যেন বাজারে ডলার ছেড়ে দেয়, সেজন্য বিধিবিধানেও বারবার পরিবর্তন আনা হয়। ডলার সংকট কাটাতে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকারদের বাফেদা (বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন) ও এবিবিকে (অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ) ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপরও সংকট কাটেনি। তবে বেশির ভাগ ব্যাংক এবিবি ও বাফেদা নির্ধারিত দরে ডলার না পেয়ে বেশি দরে বেচাকেনা শুরু করে। এ নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১০ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঘটনার পর বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ডলার সরবরাহ আরও কমে যায়। বেশির ভাগ ব্যাংক এখনো ঘোষণার চেয়ে বেশি দরে ডলার বেচাকেনা করার ফলে সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়েছে। এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল কীভাবে আরও সহজ করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।