বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি নিয়ে যখন ফুটবল বিশ্বে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিক্রিয়া দিলেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং বা ভিএআর বিতর্ককে পাশে ঠেলে মেসি এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে দেখছেন একেবারেই ভিন্ন চোখে। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়া এই মহাতারকা স্বীকার করেছেন, ৩-২ গোলের এই নাটকীয় জয়টি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত, যা আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে ইন্টার মায়ামি তারকা জানান, চলতি বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য চরম পরীক্ষা নিচ্ছে, তবে এটাই বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য। মেসি বলেন, আমাদের আবারও অনেক ভুগতে হয়েছে, কিন্তু এটাই তো বিশ্বকাপ। এখানে প্রতিটি দলই সমানে সমান, তাই প্রতিটি ম্যাচই এখন এমন কঠিন হচ্ছে। প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করলেও ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মেসি নিজেই। বিদায়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে মহাকাব্যিক এই জয় নিশ্চিত করার পর দলের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করে অধিনায়ক বলেন, ২-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর কাজটা অসম্ভব কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে এই দলটা কখনো হাল ছাড়ে না, আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে গেছি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত আট গোল করে গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে এলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর। এর আগের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও অতিরিক্ত সময়ে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনি। ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পর এবার আরও একটি অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন এলএমটেন। তবে মাঠের বাইরের সব বিতর্ক এড়িয়ে মেসি এখন শুধুই সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এবং জানিয়েছেন যে, তাদের পুরো মনোযোগ এখন কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে।