blog-img
৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ায় নিহত বেড়ে ৩৮
18 hours ago
3.7 K Views
0 comments
ভোরের শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে প্রাণহানি বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। এখনো দুজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। আহত হয়েছেন ছয়জন। উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান জানিয়েছেন, ফ্লোরেস দ্বীপের চারটি শহরে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী মাংগারাই অঞ্চলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন জীবিত আটকে আছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্য এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধার করা। তবে ভূমিধসের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে। সুনামির আতঙ্ক ভূমিকম্পের পর উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের এলাকা নাগেকেওর বাসিন্দারা সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে পেছনে সরে যেতে দেখেন। এতে সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় অনেকে দ্রুত উঁচু এলাকায় চলে যান। পরে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌত সংস্থা বিএমকেজি সুনামির সতর্কতা প্রত্যাহার করে। তবে আফটারশকের কারণে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর কয়েক ডজন আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। ভূমিকম্পের ভয়াবহতা নাগেকেওর ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা ইয়োহানেস বাবো জানান, খুব ভোরে ভূমিকম্প আঘাত হানে। তখন তিনি বাজারে ছিলেন। তার ভাষ্য, ঝাঁকুনি ছিল খুবই তীব্র। মাউমেরে শহরের বাসিন্দা লুকাস লোতার জানান, ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে একটি হাসপাতাল থেকে রোগীরা আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তিনি কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখেছেন বলেও জানান। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো মূলত ছোট ছোট শহর ও গ্রাম নিয়ে গঠিত। সেখানে বহুতল ভবনের সংখ্যা খুবই কম। বিএমকেজি প্রথমে সম্ভাব্য সুনামির ঢেউয়ের বিষয়ে সতর্ক করে বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যেতে বলেছিল। পরে সুনামির সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও সমুদ্রের পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। ইতিহাসেও বড় ভূমিকম্প প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ার নামে পরিচিত তীব্র ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়া ও এর আশপাশের দেশগুলো অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ১৯৯২ সালে ফ্লোরেসে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। এতে সুনামির সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হন। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতেও ইন্দোনেশিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ছিল। ওই দুর্যোগে পুরো অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতেই মারা যান প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

Comments 0

Your Comment