blog-img
হাদি ইস্যুতে মমতার বিরুদ্ধে মামলা
5 hours ago
4.1 K Views
0 comments
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও ভারতবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুন কলকাতার রাসমণি রোডে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের এক ‘বড় খুনি’ মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। একই সঙ্গে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকাসংক্রান্ত একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেন। আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মমতার এই বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া কথোপকথনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তিনি ‘মৌলবাদীদের উসকে’ দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দাঙ্গায় উসকানি, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসম্প্রীতি নষ্ট করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শান্তিভঙ্গের অভিযোগসংক্রান্ত ধারা। অভিযোগে উল্লেখিত ধারাগুলো হলো— ১৫২ ধারা — রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে উসকানির অভিযোগ ১৫৩ ধারা — দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উসকানি ১৫৩এ ধারা — ধর্ম, জাতি, ভাষা বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়ানো ১৯১ ও ১৯২ ধারা — দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ ১৯৬ ধারা — ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিদ্বেষ ছড়িয়ে জনসম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ ৩৫১ ধারা — ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কাউকে বাধ্য করার চেষ্টা ৩৫২ ধারা — ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তিভঙ্গের অভিযোগ প্রসঙ্গত, ওই জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা একটি বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। আমি অন্য দেশের বিষয়ে কিছু বলছি না, শুধু বলছি তারা মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল। এখানে আসার পর আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, বিষয়টি যেন বাইরে প্রকাশ না করা হয়। কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল এবং কার কার নাম সামনে এসেছিল, আমি সব জানি।’

Comments 0

Your Comment