ভারতে বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়ছে। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের আগস্টে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার বিদেশি পর্যটক (এফটিএ—ফরেন টুরিস্ট অ্যারাইভাল) ভারতে এসেছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি পর্যটক আগমন বেড়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।
আগস্টে পর্যটক আগমনের এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজারের বেশি পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছেন, যা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। গত জুলাইয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রবৃদ্ধি দেখা গেল।
বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন থেকেও পর্যটক আগমনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। গত আগস্টে চীন থেকে ভারতে আসা পর্যটকের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের পর্যটন বাজারে বিভিন্ন ধরনের বাধা ও বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল। সে বিবেচনায় আগস্টের পরিসংখ্যানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ইঙ্গিত মিলছে, ভারতের পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার শুধু প্রচলিত পর্যটন বাজারগুলোর ওপর নির্ভরশীল নয়।
অন্যদিকে, প্রথাগত পশ্চিমা বাজারগুলো থেকে পর্যটক আগমনের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য—দুই দেশ থেকেই আগস্টে পর্যটক আগমন ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
তবে কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকে পর্যটক আগমনের প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি। এসব দেশ থেকে পর্যটক আসার হার বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে।
পর্যটন নীতি বিষয়ক থিংক-ট্যাংক ‘অতিথি ফাউন্ডেশন’-এর সিইও হেমন্ত জোশি গণমাধ্যমকে বলেন, এই পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ও চীনের মতো বাজারে পর্যটন পরিস্থিতির পুনরুদ্ধারের কারণে ভারতে আগত পর্যটকদের পরিসর বা উৎসবাজারের মানচিত্র সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
তবে শুধু এক মাসের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বড় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন জোশি। তিনি বলেন, ‘মাত্র এক মাসের তথ্যের ভিত্তিতে একে কাঠামোগত পরিবর্তন বলে অভিহিত করাটা তাড়াহুড়ো হবে।’
জোশির মতে, পর্যটন একটি ঋতু-নির্ভর খাত। ফলে বিভিন্ন উৎসবাজারের পর্যটকদের ভ্রমণ প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটক আগমনের এই ওঠানামার পেছনে সময়কাল এবং ‘বেস ইফেক্ট’ বা তুলনামূলক ভিত্তিমূল্যের প্রভাব থাকতে পারে। এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে আরও কয়েক মাসের প্রবণতা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।