blog-img
পশ্চিমবঙ্গের ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, জনদুর্ভোগ চরমে
16 hours ago
3.4 K Views
0 comments

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। একটানা বর্ষণ ও স্থানীয় শিলাবতী, ঝুমি নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই কার্যত পানির্বতলায় ঘাটাল শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। 


ঘাটাল পৌরসভার অন্তর্গত একাধিক এলাকার পাশাপাশি বহু গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় সব বহুতল ভবনের নিচের তলা চলে গেছে পানির তলায়। স্থানীয় ও রাজ্য সড়কগুলোও পানির নিচে। ফলে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অন্য সময় যে সড়ক দিয়ে সাইকেল, বাস, সিএনজিসহ মোটরচালিত যান চলাচল করতো এখন সেখানেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে নৌকা নামানো হয়েছে। কিছুটা বাধ্য হয়ে যেসব সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন, কোমর সমান পানির মধ্যে দিয়েই তাদের চলাফেরা করতে হচ্ছে। কোনটা রাস্তা, কোনটা খেলার মাঠ, কোনটা পুকুর বোঝা দায়! 


বন্যার কারণে বন্ধ স্কুল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে চলমান দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা থাকার কারণে সমস্যা পড়েছেন সেসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। তাদের ভবিষ্যৎ ও উদ্বেগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কোথাও আবার স্কুলে যাতায়াতের সড়কগুলো পানির তলায়। সেখানে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে তারা। 


এলাকার পানির কল ডুবে থাকার কারণে খাবারের পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। দুর্গত এলাকার মানুষদের অপক্ষকৃত উঁচু জায়গায় বা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সেখানেই মিলছে খাবার। ক্ষতিগ্রস্ত বিঘের পর বিঘে চাষের জমি, সমস্যায় গবাদি পশুও। বন্যার কারণে সাপসহ বিষাক্ত কীটপতঙ্গের প্রভাব বেড়েছে। যা নিয়ে দিন রাত আশঙ্কার মধ্যে কাটাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 


সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। সোমবার তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার যথেষ্ট সচেতন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার বর্তমান অবস্থার প্রত্যক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পানি কবলিত এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য নৌকা ও ইজিবাইকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 


এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাই তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে কিভাবে পরিবারের সদস্যদের সাথে বসবাস করছেন। 


শ্যামপুর অঞ্চলের বাসিন্দা মিতা মন্ডল জানান, রোগী, গরু, বাছুর সহ গবাদি পশু নিয়ে প্রচণ্ড সমস্যায় থাকতে হচ্ছে। তার অনুরোধ বন্যা নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেন মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করেন। 


তিনি জানান, গত ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। আর সেই থেকেই এই সমস্যা পোয়াতে হচ্ছে তাদের। 

Comments 0

Your Comment