blog-img
বড় বড় শহরগুলোর স্কুলের ১০ টির মধ্যে ৯টির আশপাশেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি: ইউনিসেফ
15 hours ago
3 K Views
0 comments

বড় বড় শহরগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান। স্ন্যাকস বার, সাধারণ দোকান কিংবা চকলেট ও ক্যান্ডির দোকানের পাশাপাশি বড় বড় সুপারমার্কেটগুলোতেও এখন খুব সহজেই মিলছে এসব খাবার। শুধু তা-ই নয়, টিফিনের সময় বা নিজস্ব টিফিন মানি দিয়ে শিক্ষার্থীরা যখনই কোনো খাবার বা পানীয় কেনে, তারা প্রায় সবসময়ই বেছে নেয় অস্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলোকে। সম্প্রতি শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য সামনে এসেছে।


পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডাচ পুষ্টি কেন্দ্র 'ফুডিংসেন্ট্রম'-এর বিশেষজ্ঞ লিজবেথ ভেলেমা। ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যকর খাবারের চেয়ে অতিরিক্ত মিষ্টি, চর্বিযুক্ত কিংবা লোভনীয় স্বাদের অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর আকর্ষণ অনেক বেশি। ফলে এতসব আকর্ষণীয় খাবারের ভিড়ে তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।


ইউনিসেফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে যে খাবার বা পানীয় কেনে, তার তিন-চতুর্থাংশের (৭৫ শতাংশের) বেশিই সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর। স্কুলের মধ্যাহ্নবিরতি বা ছুটির সময় সসেজ রোল, ক্যান্ডি, চিপস এবং বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় খুব সহজেই তাদের হাতের নাগালে চলে আসছে, যা তাদের এই ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাসকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।


বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোর আশেপাশে বা সন্নিকটে এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আইন বা সরকারি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বিভিন্ন পৌরসভার কর্তৃপক্ষ এখন পরিস্থিতি পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান নিয়ন্ত্রণ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করা জরুরি। একইসঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রক্রিয়াজাত বা ক্ষতিকর খাবারের বদলে স্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রিতে সুপারমার্কেটগুলোকে আরও বেশি ভূমিকা পালন ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।


ইউনিসেফের এই বার্তার ঠিক আগেই চলতি মাসের শুরুতে 'আমস্টারডাম ইউএমসি'-এর পরিচালিত অন্য একটি গবেষণাতেও প্রায় একই ধরনের পরিসংখ্যান উঠে এসেছিল। সেই গবেষণায় বলা হয়, প্রায় ৯৪ শতাংশ মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকানে সয়লাব। ওই সময় দেশের প্রায় ১৪টি পৌরসভা যৌথভাবে দাবি জানিয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নতুন কী ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা খাবারের দোকান গড়ে উঠবে, তা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।


উল্লেখ্য, আলমেয়ার, আমস্টারডাম, ডেন বস, লাইডেন, রটারড্যাম, উট্রেখট, দ্য হেগ, ব্রেডা, গ্রোনিংেন এবং টিলবার্গের মতো বড় শহরগুলোর খাদ্য পরিবেশ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, উল্লেখিত প্রতিটি শহরেই স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা এবং আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি।

Comments 0

Your Comment