blog-img
বিয়েতে এক পদ, রাত ৯টায় দোকান বন্ধ: জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে আরও যেসব কড়াকড়ি
19 hours ago
3 K Views
0 comments

চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানে। পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে লকডাউনসদৃশ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ অর্ধেক করা, নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ, কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে এক পদের খাবার পরিবেশনের নির্দেশ রয়েছে।


বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসব কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ঘোষণা করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবায় ব্যবহৃত যানবাহন এ বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।


সরকারি কাজে নতুন গাড়ি কেনাতেও পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ছাড়া অন্যান্য স্থায়ী বা ভারী পণ্য কেনাও বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মী-সংক্রান্ত নয় এমন সরকারি ব্যয়ে ৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে।


বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পরবর্তী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের বিদেশ সফর বন্ধ থাকবে। তবে স্কলারশিপ এবং একান্ত প্রয়োজনীয় সফরের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। জরুরি সফরে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের বিমানের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে।


জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় কমাতে কর্মকর্তাদের সম্ভব হলে সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিকনফারেন্স বা অনলাইন সভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে অপ্রয়োজনীয় সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও সম্মেলনও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদলের জন্য প্রয়োজনীয় নৈশভোজ ছাড়া সরকারি নৈশভোজ বন্ধ থাকবে।


সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিয়ের অনুষ্ঠান ও এ ধরনের আয়োজনে অতিথিদের জন্য কেবল এক পদের খাবার পরিবেশন করা যাবে। দোকান, বাজার, মুদিদোকান, বিপণিবিতান ও শপিং মল রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বিয়ের হল ও অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থল বন্ধ করতে হবে রাত ১০টার মধ্যে। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও খাবারের দোকান বন্ধ হবে রাত ১১টায়।


তবে ফার্মেসি, হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ল্যাবরেটরি, জ্বালানি ও সিএনজি স্টেশন, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন, জিম, ক্রীড়া স্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কল সেন্টার এ সময়সীমার বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।


এ ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন পাকিস্তানে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো নেওয়া হলো। এর আগে মার্চে একই ধরনের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। সরকারি দপ্তরগুলোতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।


চলমান সংকটের পেছনে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। এতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে।


ডনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩৯০ দশমিক ৭৯ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৪২৪ দশমিক ৯২ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় পেট্রোলের দাম ছিল ২৬৬ দশমিক ১৭ রুপি এবং ডিজেলের দাম ২৮০ দশমিক ২৬ রুপি।


জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ কমাতে সরকার মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকদের জন্য জ্বালানি ভর্তুকির ব্যবস্থাও করেছে। নির্দিষ্ট মাসিক সীমার মধ্যে এসব যানবাহনের জন্য প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।


পাকিস্তান এর আগেও মার্চে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। তখন পরিস্থিতির কারণে ২৩ মার্চের পাকিস্তান দিবসের কুচকাওয়াজও বাতিল করা হয়েছিল। নতুন করে নেওয়া এসব পদক্ষেপে দেশটির জ্বালানি সংকটের ব্যাপকতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Comments 0

Your Comment