blog-img
দক্ষিণ আফ্রিকায় একই এলাকা থেকে দুই মাসে ৯ নারীর মরদেহ উদ্ধার
20 hours ago
3 K Views
0 comments

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে নবম এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। খবর বিবিসির।


বৃহস্পতিবার সকালে জোহানেসবার্গের ডন পার্ক এলাকার একটি রাস্তার পাশে চাদরে মোড়ানো ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তাঁর বয়স ৩০-এর কোঠায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। শরীরে আঘাত ও ছুরিকাঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।


জুলাই থেকে জোহানেসবার্গের বৃহত্তর একুরহুলেনি এলাকায় বিভিন্ন স্থানে আরও আট নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং কেউ কেউ আংশিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তবে এসব মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না কিংবা এর পেছনে কোনো ধারাবাহিক হত্যাকারী জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।


নিহতদের মধ্যে ৩৮ বছর বয়সী এলিজাবেথ ‘সোনসো’ মোসেলাকগোমো রয়েছেন। গত সপ্তাহে বিকেলে দৌড়াতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর কেম্পটন পার্কের একটি হোটেলের পেছন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ইতুমেলং কেকানা নামে এক নারী জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ৩৮ বছর বয়সী ডিনিও এভলিন মোতাপানের মরদেহ মঙ্গলবার কোয়াথেমার একটি রাস্তার পাশে পাওয়া যায়।


এই ধারাবাহিক ঘটনায় প্রথম মরদেহটি ১৫ জুলাই কেম্পটন পার্কে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় দুদিন পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখনো পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তবে ওই সন্দেহভাজনের সঙ্গে পরবর্তী ঘটনাগুলোর কোনো যোগসূত্র পুলিশ এখনো খুঁজে পায়নি।


আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কেম্পটন পার্ক, অলিফ্যান্টসফনটেইন, ক্লেভিল ও কোয়াথেমাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও কয়েকজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ গোয়েন্দা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে একজন ‘পার্সন অব ইন্টারেস্ট’-কে খুঁজছে পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তি কোন ঘটনা বা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নারীদের বিরুদ্ধে গুরুতর ও সহিংস অপরাধের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গভীর উদ্বেগের বিষয়। নারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ একা হাঁটা ও নির্জন পথ ব্যবহার এড়িয়ে চলা, অপরিচিত ব্যক্তি ও সন্দেহজনক যানবাহনের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নিজের অবস্থান বা ভ্রমণ পরিকল্পনা জানিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। হাঁটার সময় উচ্চ শব্দে ইয়ারফোন বা ইয়ারবাড ব্যবহার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ৪ লাখ দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড (প্রায় ২৪ হাজার মার্কিন ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিখোঁজ স্বজন রয়েছে এমন পরিবারগুলোকে মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তকরণে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এদিকে ভারপ্রাপ্ত পুলিশমন্ত্রী ফিরোজ কাচালিয়া ঘটনাগুলো নিয়ে জল্পনা-কল্পনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, তদন্তকারীরা বর্তমানে এমন কিছু ঘটনা নিয়ে কাজ করছেন, যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে ‘একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র’ বলে মনে হচ্ছে। তবে কোনো একটি গোষ্ঠী এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উচ্চহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ইউএন উইমেনের তথ্যমতে, দেশটিতে নারীদের হত্যার হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। গত নভেম্বরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পর সরকার নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

Comments 0

Your Comment