blog-img
স্ত্রী হত্যা মামলায় ফাঁসলেন স্বামী, ১২ বছর পর জীবিত উদ্ধার সেই নারী
4 hours ago
2 K Views
0 comments

ভারতের বিহারে ১২ বছর আগে যে নারীর ‘হত্যার’ অভিযোগে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, সেই নারীই এবার জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন ঝাড়খণ্ড থেকে। ফলে এক যুগ ধরে চলা হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে- ২০১৪ সালে যে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটি আসলে কার?


ঘটনাটি বিহারের রোহতাস জেলার। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে শকুন্তলা দেবী নিখোঁজ হন। তার ভাই পুলিশে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তখন অভিযোগ করা হয়েছিল, শ্বশুরবাড়িতে যৌতুক নিয়ে তাকে নির্যাতন করা হতো। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর খাণ্ডা গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শকুন্তলার ভাই ও স্থানীয় একজন ব্যক্তি মরদেহটি শকুন্তলার বলে শনাক্ত করেন।


এরপর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় এবং ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু হয়। শকুন্তলার স্বামী অরুণ মেহতা, শ্বশুর দিলীপ মেহতা ও দেবর গোবিন্দ কুমারসহ পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও পাঠানো হয়েছিল। পরে অরুণ জামিনে মুক্তি পেলেও মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।


পরিবারের দাবি, মামলাটি সামাল দিতে গিয়ে তাদের আর্থিকভাবেও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পরিবারের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধ মীমাংসার জন্য ৮ লাখ রুপি দাবি করা হয়েছিল এবং সেই অর্থ জোগাড় করতে তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছিল। তবে এসব দাবি ও মামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান।


১২ বছর পর মিলল ‘নিখোঁজ’ নারী


ঘটনার মোড় ঘুরে যায় সম্প্রতি। পরিবারের কাছে খবর আসে, শকুন্তলা দেবী জীবিত অবস্থায় ঝাড়খণ্ডে বসবাস করছেন। খবর পেয়ে রোহতাস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে ঝাড়খণ্ডের গড়বা জেলার কান্ডি থানার লভারি গ্রামে এক নারীকে শনাক্ত করে। পুলিশ জানায়, ওই নারী নিজের নাম পরিবর্তন করে কান্তি দেবী পরিচয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন এবং এক ব্যক্তির সঙ্গে থাকছিলেন।


পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে বিহারে নিয়ে আসে এবং সাসারাম আদালতে হাজির করে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, পুলিশকে বিভ্রান্ত করা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।


তাহলে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহটি কার?


শকুন্তলা জীবিত থাকলে ২০১৪ সালে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কার ছিল- এখন সেটিই পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


তখন কীভাবে মরদেহটিকে শকুন্তলার বলে শনাক্ত করা হয়েছিল, পরিচয় নিশ্চিত করতে কী ধরনের পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং সেই শনাক্তকরণে কোনো ভুল হয়েছিল কি না- এসব বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই মরদেহের প্রকৃত পরিচয়ও বের করার চেষ্টা চলছে।


স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শকুন্তলার একটি ২২ বছর বয়সী ছেলেও রয়েছে। তিনি নিখোঁজ হওয়ার সময় ছেলেটি ছোট ছিল। ১২ বছর পর মায়ের জীবিত সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় পুরোনো মামলাটির পাশাপাশি পরিবার ও তদন্তকারী সংস্থার সামনে নতুন করে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


এখন পুলিশের তদন্তের মূল বিষয় দুটি-ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধার হওয়া নারী সত্যিই শকুন্তলা দেবী কি না এবং ২০১৪ সালে রোহতাসের খাল থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর প্রকৃত পরিচয় কী। এই দুই প্রশ্নের উত্তর মিললেই এক যুগের পুরোনো রহস্যের জট খুলতে পারে।

Comments 0

Your Comment