কলম্বিয়ায় ভোটগ্রহণ শেষ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে
Ajker highlights
প্রকাশ:
রাজনৈতিক সহিংসতা ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ এবং এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে বিদায়ী বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে মাসব্যাপী প্রকাশ্য কাদা ছোঁড়াছুড়ির পর এই বহুল প্রতীক্ষিত ভোট অনুষ্ঠিত হলো। তবে প্রাথমিক আভাস অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছেন না। ফলে দেশের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণে আগামী ২১ জুন একটি চূড়ান্ত রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কলম্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না থাকায় তিনি বামপন্থী নেতা ইভান সেপেদাকে সমর্থন দিয়েছেন। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা সেপেদা, সরকারের বর্তমান 'পূর্ণাঙ্গ শান্তি' নীতি বজায় রাখার পক্ষে। এ নীতির মূল লক্ষ্য অপরাধী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা। অন্যদিকে তার বিপরীতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন ডানপন্থী স্বতন্ত্র নবাগত আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা এবং রক্ষণশীল দলের পালোমা ভ্যালেন্সিয়া। ট্রাম্প ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ভক্ত ব্যবসায়ী এসপ্রিয়েল্লা নিজেকে 'বাঘ' আখ্যা দিয়ে কঠোর হাতে অপরাধ দমনের শপথ নিয়েছেন। আর প্রচারণার সময় তাদের দলের আগের প্রার্থী মিগেল উরিবে গুলিতে নিহত হওয়ার পর ভ্যালেন্সিয়া মধ্যপন্থী ভোটারদের আকর্ষণের পাশাপাশি সামরিক অভিযানের অঙ্গীকার করেছেন। ডানপন্থী এই দুই প্রার্থীই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কলম্বিয়ার ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা মৈত্রী পুনরুদ্ধার করতে চান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৪ কোটি ১০ লাখ ভোটারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ৪ লক্ষ ৮ হাজার সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোট শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তরাঞ্চলীয় সিজার এলাকায় ড্রোন হামলায় এক সেনা আহত হওয়ার পর একটি ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরও করতে হয়। শেষ পর্যন্ত ২১ জুনের রান-অফ ভোটে কলম্বিয়ার নাগরিকরা কাকে বেছে নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটির ভবিষ্যৎ মাদক নীতি এবং আন্তর্জাতিক মিত্রতার সমীকরণ।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।