সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে তাঁতে কাজ করতেন সিদ্দিক আলী (২৩)। লুঙ্গি বুনতে বুনতেই হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর জ্ঞান ফিরলেও শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দ্রুত সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সিদ্দিক আলীর স্ত্রী তামান্না খাতুন বলেন, ‘ডান হাত অবশ হয়ে যাওয়া দেখে স্ট্রোক সন্দেহ করে দ্রুত ঢাকা নিয়ে আসতে বলেন চিকিৎসকরা। আমরা তাকে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। এত অল্প বয়সে স্ট্রোক হয় এটা শুনে অবাক হয়েছি।’ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের আবাসিক সার্জন হাসান মেহবুব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বর্তমানে কম বয়সিদেরও স্ট্রোক হচ্ছে। হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের কারণে, জীবনযাপনের ওপরও স্ট্রোকের ঝুঁকি নির্ভর করে। তরুণদের মধ্যে অনেকে ধূমপান, তামাকজাতীয় দ্রব্য কিংবা মাদক সেবন করেন। এতে স্ট্রোকের ঘটনা বাড়ে। কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফাস্টফুড জাতীয় খাবার গ্রহণ, কায়িক পরিশ্রমে অনীহা, মানসিক চাপ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।’ সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি হাজার জনের মধ্যে প্রায় ১৩ দশমিক ৬ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো- এদের মধ্যে ২৩ শতাংশ রোগীর বয়স ৫০ বছরের কম। অর্থাৎ প্রতি চারজন স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর একজনের বয়স ৫০ বছরের নিচে। চলমান ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সির মধ্যে স্ট্রোকের হার সবচেয়ে বেশি। এই বয়সসীমার ২৮ শতাংশ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। বিএসএমএমইউর ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস গত বছর এ গবেষণা শুরু করে। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদি, শাহেদল, আড়াইবাড়িয়া ও গোবিন্দপুর গ্রামের মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।