blog-img
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম
52 minutes ago
3.7 K Views
0 comments

ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালির ইরানি লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। হামলা-পাল্টা হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও আড়াই শতাংশের বেশি বেড়েছে।


সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৫১ ডলার বা ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ১৩ ডলার বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৫৩ ডলারে ওঠে। এর আগে রবিবার হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের লারাক দ্বীপে থাকা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জুলাইয়ের শেষের পর উপসাগরীয় এই দেশটিতে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।


এর পাল্টা জবাবে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটিতে চালানো ওই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান। আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মনে হচ্ছে আমরা আবারও উত্তেজনা বাড়ার একটি পর্যায়ে ঢুকেছি। এটি কত দিন চলবে, তা বলা কঠিন। কয়েক দিনও হতে পারে, আবার কয়েক সপ্তাহও চলতে পারে।


সাইকামোরের মতে, বাজারের কারিগরি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সংঘাত আরও বাড়লে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৯০ ডলারের প্রতিরোধের স্তর অতিক্রম করতে পারে। সেটি হলে দাম আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। প্রথমে গত সপ্তাহের সর্বোচ্চ ৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে ডব্লিউটিআই।


এদিকে সংঘাত বন্ধে চলমান আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নৌ চলাচল শুরুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।


রবিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সপ্তাহে নতুন করে ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’ জারি করতে পারে। এর মাধ্যমে ইরানকে ডলারের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


তবে আগস্টে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম সামান্য কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৪ শতাংশের বেশি কমেছিল। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সমাধান না এলেও এই পথে তেল পরিবহন বাড়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে এএনজেডের বিশ্লেষকেরা। গ্রাহকদের পাঠানো এক নোটে তারা এ কথা উল্লেখ করেন।


জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণে গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে আসে। জাহাজে হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন কোম্পানি সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস রবিবার জানায়, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভেতরের দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকারে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া একটি চুক্তির আওতায় পাওয়া তেল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত আবার পূরণ করা হবে। দেশটির এই মজুত ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে গেছে।

Comments 0

Your Comment