blog-img
আস্ত খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে গেলেন জাপানপ্রবাসী বর
1 day ago
4.3 K Views
0 comments
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বড় থালায় আস্ত খাসি না থাকায় বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে চলে গেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। সোমবার বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। কনের পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে আত্মীয়স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান জুনায়েদ। এসময় তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে আত্মীয়স্বজনদের খাওয়ানো শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু ওই খাবারে খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান। এসময় কনেপক্ষের আত্মীয়স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একাই কনের বাড়ি থেকে চলে যান জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ। কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনো বাবা-মা চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। অবশেষে বিয়ে না করেই তিনি চলে যান। এদিকে, এই ঘটনার পর আস্ত খাসি না পেয়ে বিয়ে না করে চলে যাওয়ার এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন জুনায়েদ। উল্টো তিনি দাবি করেন- কাবিনের টাকা নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় তিনি বিয়ে না করেই অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন। জুনায়েদ জানান, আমি কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্যে বিয়ের মঞ্চ থেকে চলে আসিনি। বিয়ের আগে দুই পক্ষের মধ্যে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বিয়েটা সম্পন্ন হবে- এটাই আমার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কনেপক্ষ থেকে আমার সামর্থ্যের তুলনায় বেশি কাবিনের টাকা দাবি করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমি তখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, আমার কাছে মনে হয়েছে এই অবস্থায় বিয়ে করলে ভবিষ্যতে আমাদের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিই।

Comments 0

Your Comment