মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গতকাল বিভিন্ন স্থানে হাঙ্গামা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় এসব ঘটনা ঘটে। জামালপুরের ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের ছুরিকাঘাতে দুজন আহত হয়েছেন। টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে হট্টগোল করেছেন শিক্ষক নেতারা। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) কর্মকর্তাদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। মৌলভীবাজার ও মাদারীপুরে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- জামালপুর : জামালপুরে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতে আহত করেছেন ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ শান্ত। জানা গেছে, সকালে সদর উপজেলার ভারুয়াখালী এমএন উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ শান্তর সঙ্গে পারভেজ হাসানের কথাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবু সাঈদ শান্ত উত্তেজিত হয়ে পারভেজ হাসানের ওপর হামলা করে। পারভেজের ছোট ভাই তাহের হামলায় বাধা দিতে গেলে ছাত্রদল নেতা আবু সাইদ শান্ত পারভেজ ও তাহেরকে ছুরিকাঘাতে আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যায়। তবে গুরুতর আহত হওয়ায় পারভেজকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। পারভেজ হাসান ও তাহের ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের কটারবাড়ী এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে। কুমিল্লা : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে হট্টগোল করেছেন শিক্ষক নেতারা। জানা গেছে, প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ড. এ এফ এম আবদুল মঈন। এরপর শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ছাত্রলীগ, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি ফুল দেয়। একপর্যায়ে কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িকে ফুল দেওয়ার অনুরোধ জানান উপস্থাপক। এতেই হট্টগোল বাধান শিক্ষক সমিতির নেতারা। হট্টগোলের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেজের একপাশে উপাচার্য ও প্রক্টর বসে আছেন। পাশে ছিলেন অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মিজানুর রহমান। একপর্যায়ে নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির নেতারা চারপাশে ঘিরে ধরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা জানতে চান, হলের ছাত্ররা আগে ফুল না দিয়ে কেন পুলিশকে সুযোগ দেওয়া হলো? এ ঘটনায় উত্তেজিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর আবু তাহের অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ককে ক্ষমা চাইতে বলেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানকেও আঙুল নাড়িয়ে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায়। উত্তেজিত দেখা যায় সমিতির সহসভাপতি কাজী মো. কামাল উদ্দিনকেও। পাবনা : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা দেওয়ায় কর্মকর্তাদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার বিচার চেয়ে ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জানা গেছে, বুধবার প্রভাতফেরি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং রেজিস্ট্রার ফুল দেওয়া শেষ করেন। তারপর এক এক করে বিভিন্ন বিভাগ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দেয়। সবার শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন পাস্ট ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ফুল দিতে আসেন। এ সময় কর্মকর্তা পরিষদ নেতারা ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ফুল দিতে বাধা দেন। একপর্যায়ে দুটি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় ধরে হাতাহাতি ও বাগ্বিতণ্ডা চলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এর কিছুক্ষণ পর ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা এই ঘটনার বিচার দাবিতে শহীদ মিনার চত্বরে বসে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. ঘাবিবুল্লাহ, প্রক্টর ড. কামাল হোসেন, সহকারী প্রক্টর ড. মাসুদ রানা, ছাত্র উপদেষ্টা দফতরের পরিচালক ড. নাজমুল হোসেন এসে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে তারা শহীদ মিনারে ফুল দেন।