মহাবিশ্বের নতুন মানচিত্র তৈরি করবে নাসার ‘রোমান’ টেলিস্কোপ
17 hours ago
3.7 K
Views
0
like
share
মহাবিশ্বের অদৃশ্য ও অজানা জগতের সন্ধানে নতুন এক অভিযানে যাচ্ছে নাসা। ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ নামে বিশাল এই মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে।
নাসার এই টেলিস্কোপকে বিজ্ঞানীরা ‘ডিসকভারি মেশিন’ হিসেবে অভিহিত করছেন। আগামী পাঁচ বছর মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির মতো অমীমাংসিত রহস্য সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। একই সঙ্গে নতুন গ্যালাক্সি, এক্সোপ্ল্যানেট এবং নক্ষত্রের সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে রোমান।
ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামানুসারে টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে। নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ছিলেন তিনি এবং মহাকাশভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের ধারণা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
প্রায় ৪৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে তৈরি করা হয়েছে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। উৎক্ষেপণের পর পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে পৌঁছাতে এর প্রায় তিন মাস সময় লাগবে।
রোমানের দৃষ্টিসীমা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি। এর ফলে একই সময়ে মহাবিশ্বের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, টেলিস্কোপটি আগে দেখা যায়নি এমন বহু গ্যালাক্সি ও গ্রহের সন্ধান দিতে পারে।
রোমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার নিয়ে গবেষণা করা। ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করছে বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে ডার্ক ম্যাটার সরাসরি দেখা যায় না, তবে মহাবিশ্বের গঠন ও গ্যালাক্সিগুলোর স্থিতিশীলতায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের বিস্তৃত এলাকার ছবি সংগ্রহের পাশাপাশি হাজার হাজার সুপারনোভা এবং বিপুলসংখ্যক নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ইতিহাস এবং ডার্ক এনার্জির ভূমিকা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
এ ছাড়া রোমান টেলিস্কোপের সাহায্যে হাজার হাজার এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এমনকি কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে না, এমন বিচ্ছিন্ন বা ‘রোগ প্ল্যানেট’ও এর নজরে আসতে পারে। প্রথমবারের মতো এক্সোপ্ল্যানেটের চারপাশে থাকা এক্সোমুনের অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
রোমানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হলো করোনাগ্রাফ। এটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো আড়াল করে তার আশপাশে থাকা তুলনামূলক ক্ষীণ গ্রহ শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে পৃথিবীর মতো গ্রহের ছবি তোলা এবং সেসব গ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রাণের সম্ভাব্য রাসায়নিক চিহ্ন খোঁজার প্রযুক্তি উন্নয়নেও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উৎক্ষেপণের পর রোমানের যন্ত্রপাতি পরীক্ষা ও প্রস্তুত করার কাজ চলবে। এর অ্যান্টেনা স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ছবি ও অন্যান্য তথ্য পৃথিবীতে পাঠানো হবে। টেলিস্কোপটি প্রতিদিন প্রায় ১ টেরাবাইট তথ্য পাঠাবে বলে জানিয়েছে নাসা।
রোমানের সংগৃহীত তথ্য পৃথিবীতে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর তা বিজ্ঞানীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকেরা একই তথ্য ব্যবহার করে মহাবিশ্বের গঠন, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, গ্রহ এবং মহাজাগতিক বিভিন্ন রহস্য নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন।