ভোটযুদ্ধের মহাপ্রস্তুতি ফেসবুকেও
1 week ago
3.2 K
Views
0
like
share
নির্বাচন সামনে রেখে ফেসবুকসহ সমাজমাধ্যম ব্যবহারে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী। এরই মধ্যে ফেসবুকে শুরু হয়েছে তাদের ভোটযুদ্ধ। ফেসবুকে নানান ধরনের কনটেন্ট দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। আগামী নির্বাচনে তাদের ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভোটযুদ্ধে নামতে চান তারা। নিজেদের প্রচারণার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের নানান বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালানো হবে ফেসবুকের মাধ্যমে। এর বাইরে বয়সে তরুণ ও সমাজমাধ্যম সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে এমন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে টিম তৈরি করছেন অনেক প্রার্থী। তাদের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন নিজেদের নানান ধরনের নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকা । এ ছাড়া ছড়িয়ে দিচ্ছেন ব্যানার, পোস্টারও। বেশির ভাগ মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী দলীয় প্রতীকের সঙ্গে নিজেদের ফটোকার্ড তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সমাজমাধ্যমে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় আবার কেউ প্রতিদিন এসব প্রচারণা বদলাচ্ছেন। নিত্য নতুন আইডিয়া দিয়ে তৈরির চেষ্টা করছেন নানান ধরনের প্রচারণার কৌশল। শুধু প্রার্থী নয়, কোনো কোনো দল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার পূর্ণপ্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসীদের ভোট পেতে ফেসবুককে বিশেষ করে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতারা। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আলাদা নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন তারা। বিশেষ করে প্রবাসীদের উন্নয়নে নানান ধরনের পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সমাজমাধ্যমে। কোনো কোনো প্রার্থী অথবা তাদের পক্ষের ব্যক্তি সমাজমাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি কেউ কেউ ফান্ড প্রার্থনা করছেন বলেও প্রচারণা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে ফেসবুকসহ সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে নানান ধরনের অপতৎপরতা চলতে পারে বলে সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানান ধরনের বিষোদ্গার ছড়িয়ে দিতে পারে। এতে নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোয়েন্দাদের এ ধরনের আগাম বার্তা পেয়ে এরই মধ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্বাচন ঘিরে অপতৎপরতা কমাতে অনেকটা সচল করা হয়েছে সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে। তাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে-জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সোশ্যাল মিডিয়ায় সহিংসতার আহ্বানকারী টেক্সট, ইমেজ বা ভিডিও পোস্টগুলোর বিষয়ে তথ্য নিচ্ছে জনসাধারণের কাছ থেকে। আপনার এলাকায় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এরকম ঘটনা দেখলে সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে অবহিত করুন।
এর আগে আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন কেন্দ্র করে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
প্রায় একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশনসহ অন্যান্য সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি এবং বিটিআরসির মধ্যকার সমন্বয় সাধনের বিষয়ে জোর গুরুত্ব আরোপ করেন। এর আগে ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, মনে রাখবেন, হেট স্পিস যা সরাসরি সহিংসতা ঘটায় কিংবা সহিংসতার ডাক দেয়, সেটা জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ মতে দণ্ডনীয় অপরাধ। সোশ্যাল মিডিয়াকে সহিংসতা কিংবা ভায়োলেন্স তৈরির টুল হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। দেশ এবং নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হোন।
গত বছরের ২১ মে সাইবার সুরক্ষা অধ?্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়। পরে সংশোধিত অধ?্যাদেশের অধীনে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একই বছরের ২৬ আগস্ট জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠিত হয়। ২৫ সদস্যের এ কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।