নৃত্যাঞ্জলি ডান্স একাডেমি বারো মাসে তেরো পার্বন উদযাপনের ধারাবাহিকতায় গত ১৪ এপ্রিল (রবিবার) পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ বরণ ও বৈশাখী হালখাতার আয়োজন করে। সিডনির ল্যাকেম্বায় নৃত্যাঞ্জলি একাডেমির হলরুমে বিকেল ৪টা থেকে রাত দশটা অব্দি একটানা চলে এই অনুষ্ঠান। এবারে নৃত্যাঞ্জলির এই অনুষ্ঠান এর মূল আকর্ষণ ছিলো মেহেদী সাজ, শাড়ি-গহনার প্রদর্শনী, ফটোবুথ ও বৈশাখী আমেজে দেশজ পান্তা ইলিশসহ প্রায় পঁচিশ রকম খাবার, পানীয় ও হরেক প্রকার মিষ্টান্ন। বিশেষ আয়োজনে ছিলো শুটকি ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠাসহ মুখোরচক জলখাবার। আরো ছিলো কদবেল ভর্তা, বরই ভর্তা, পেয়ারা মাখা, ঝালমুড়ি ও চা। নৈশভোজে কাঁচা লংকা-পান্তা ভাত, ইলিশ ভাজা, রুই মাছের ঝোল, লাউ চিংড়ি, মুড়ি ঘন্ট, মুগ ডাল, চিংড়ি দিয়ে কুমডা শাক, বেগুন ভর্তা, কুমড়ো ভর্তা, আলু ভর্তা, করলা ভর্তা, কচু ভর্তা, পটল ভাজি, কাকরোল ভাজি সাথে বরই চাটনী। মিষ্টান্নের আয়োজনে ছিল আম, দুধ, কলা, কাঠাল ও তাল শাস দিয়ে বানানো অম্বুবাচী ভোগ। এ ছাড়াও ছিলো হরেক রকম দেশী মিষ্টি, মন্ডা, সেমাই, কেক, সুজির বরফি, গজা, নারকেল নাড়ু, মালপোয়া ও মুড়ির মোয়া। দিনব্যাপী পরিবেশনায় ছিলো ছোট্ট সোনামনিদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নাচ, গান, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণ। মৌসুমী ও রাজেশ সাহার পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. রতন কুন্ডু। সাথে ছিলেন মুনা মোস্তফা। শিশু কিশোর কিশোরীদের দুটো গ্রুপে প্রায় এক ডজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। ছবি আঁকায় বিচারক ও পুরষ্কার তুলে দেন মিলি রহমান, ডা: লাভলী রহমান ও ড. লায়লা আরজুমান। সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই সমবেত কণ্ঠে বৈশাখী আবাহনী সংগীত "এসো হে বৈশাখ" পরিবেশন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন জ্যোতি বিশ্বাস, রিমা সাহা, পম্পা হাটি, মধুমিতা সাহা, ইমরান হোসাইন, সুহৃদ হকসহ অন্যান্য কন্ঠশিল্পী বৃন্দ। হারমোনিয়াম এবং লিড সিঙ্গার ছিলেন অমিয়া মতিন। তবলায় ও জিপসীতে সংগত দেন জন্মেজয় রায় ও সুহৃদ হক। কবিতা আবৃত্তি করেন ডা: লাভলী রহমান, নাহিদা হক উর্মি, মুনা মুস্তফা, দেবী সাহা, সুহৃদ হক ও পম্পা হাটি।