ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়েছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’। সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজটি আফ্রিকার মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার পথে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। গতকাল দুপুর দেড়টায় জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ার বিষয়টি জানতে পারে মালিক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। জাহাজের ২৩ নাবিকের সবাই নিরাপদে রয়েছেন। জানা গেছে, জলদস্যুরা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর জাহাজটি মোজাম্বিকের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ‘এম ভি আবদুল্লাহ’ জাহাজের ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদ মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের এসআর শিপিংয়ের কর্মকর্তাদের জানান, ‘জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিতে মাত্র ১৫ মিনিট লাগে জলদস্যুদের।’ তিনি আরও জানান, ‘জাহাজে জলদস্যুতের আক্রমণের খবর পেয়েই শিপিংয়ের কর্মকর্তারা যে কোনো মূল্যে তা ঠেকানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু এর ১৫ মিনিট পরই ক্যাপ্টেনের একটি ই-মেইল বার্তা আসে চট্টগ্রামে। সেখানে তিনি জানানো হয়- জলদস্যুরা জাহাজের দখল নিয়ে ফেলেছে।’ জিম্মি জাহাজ থেকে গোপনে একটি অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান। ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ওই অডিও বার্তায় জলদস্যুদের কবলে পড়ার সম্পূর্ণ ঘটনাটি বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে জানিয়েছেন জাহাজ ও তাদের বর্তমান পরিস্থিতিও। আতিকুল্লাহ খান তার অডিও বার্তায় জানান, জাহাজটিতে খাবার পানির পরিমাণ কম। আবার জাহাজে যেসব কার্গো রয়েছে সেগুলোও বিপজ্জনক। রয়েছে অগ্নিঝুঁকিও। সোমালিয়ান জলদস্যুরা জাহাজে ওঠার পর কার সঙ্গে কী আচরণ করেছে তাও বর্ণনা করেছেন তিনি। অডিও বার্তাটি হুবহু তুলে ধরা হলো : ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান বলছি। আজকে সকালে জাহাজের সময় আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় একটা হাইস্পিড বোট আমাদের দিকে আসছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমরা এলার্ম দিয়ে ব্রিজে গেলাম। ওখান থেকে পরে সিটে চলে গেলাম। ক্যাপ্টেন স্যার ও সেকেন্ড অফিসার ব্রিজে ছিলেন। আমরা ঝিকঝাক কোর্স করলাম। তারপর এএসএস-এ করলাম। ইউকে এমটিকেও ট্রাই করলাম। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেনি। এর মধ্যে জলদস্যুরা চলে আসলো। চলে আসার পর ওরা ক্যাপ্টেন স্যার ও সেকেন্ড অফিসারকে জিম্মি করে। আমাদের ডাকল। আমরা সবাই আসলাম। আমাদের ডেকে কিছু গোলাগুলি করল। আমরা একটু ভয় পেয়েছি। সবাই ব্রিজে বসেছিলাম। কারো গায়ে হাত তোলেনি। শুধু সেকেন্ড অফিসারকে একটু মারধর করেছে। তারপর আরেকটি স্পিডবোটে করে আরও কয়েকজন চলে আসল। এভাবে মুহূর্তেই প্রায় ১৫-২০ জন চলে আসে।