ঢাকা এখন আবর্জনার শহর
ঢাকা এখন আবর্জনার শহর
Ajker highlights
প্রকাশ:
পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ পুলিশ বক্সের পাশে সড়কের ওপরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ছয়টি ময়লার কনটেইনার রয়েছে। আশপাশ এলাকার সব ময়লা এসব কনটেইনারে ফেলেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। তবে ময়লা বেশি হওয়ায় কনটেইনার ভরাট হয়ে নিত্য রাস্তায়ও স্তূপ হয়ে যায়। এরপর টোকাইরা প্লাস্টিক বোতলসহ অন্যান্য পণ্য আলাদা করার সময় ময়লাগুলো যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখে। ফলে নাকে-মুখে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হয় যাত্রী ও পথচারীদের। একই অবস্থা শ্যামবাজারের সামনের সড়কটির। বাজারের একটু পুবে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বেশির ভাগই কাঁচাবাজারের বর্জ্য। রাস্তার ওপরে ময়লা রাখায় যানজট ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা। একই অবস্থা রামপুরা বাজারের সামনের প্রধান সড়কে। বাজারের উত্তর পাশে ওয়াপদা রোডের মাথায় বাজারেরসহ আশপাশ এলাকার ময়লা ফেলে ভাগাড় তৈরি করা হয়েছে। দিন-দুপুরে ময়লা ফেলে স্তূপে পরিণত করে। এসব ময়লার দুর্গন্ধে পথচারী ও আশপাশের দোকানিরা অতিষ্ঠ। সরেজমিনে ঢাকার এসব স্থানের চিত্র এমনই দেখা যায়। শুধু এসব জায়গায় নয়, ঢাকা দুই সিটি এলাকার দুই শতাধিক উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। অথচ ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র নির্বাচনি ইশতেহারে ‘সুন্দর ঢাকা’ এবং উত্তর সিটি মেয়র ‘সুস্থ ঢাকা’ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিছেন। দুই মেয়রের ইশতেহার অনেক ধীরগতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। অথচ দুই মেয়রই চার বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা রাখতে সেকেন্ডারি ট্রান্সপার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের উদ্যোগ নেয় দুই সিটির তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন ও আনিসুল হক। দুই মেয়র কিছু এসটিএস নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে আনিসুল হকের ইন্তিকালের পর উত্তরের এই উদ্যোগ ভাটা পড়েছে। ঢাকা উত্তরে ৫৪টি ওয়ার্ড থাকলেও এখন পর্যন্ত ২৭টিতে এসটিএস তৈরি করতে পারেনি সংস্থাটি। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এখন পর্যন্ত ৬১টি ওয়ার্ডে এসটিএস নির্মাণ করেছে। দুই সিটি এলাকায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ময়লা তৈরি হচ্ছে। যার ৩০ ভাগ বর্জ্য এখনো উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয়। এ ছাড়া প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মোড়ক পথচারীরা রাস্তায় ফেলছেন। একই সঙ্গে বাসাবাড়ির বর্জ্য এখনো বিভিন্ন সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০ ভাগ বর্জ্য এখনো সংগ্রহের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এদিকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার পরিস্থিতি বদলাতে ২০১৭ সালে ১৫ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) প্রণয়ন করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এতে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে। আড়াই বছর আগে খসড়া মহাপরিকল্পনার অনুমোদন দেয় দুই সিটি করপোরেশন। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ২০১৯ সালের নভেম্বরে সেটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়। প্রায় ২৭ মাস ওই খসড়া আটকে থাকার পর ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সেটির অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। মহাপরিকল্পনার প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৩২ সালে রাজধানীতে দৈনিক বর্জ্য তৈরি হবে সাড়ে ৮ হাজার টন। মহাপরিকল্পনার প্রতিপাদ্য, ‘সমন্বিত ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশগতভাবে উন্নত শহর : শূন্য বর্জ্যরে পথে’। ‘বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃ চক্রায়ণ (রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল)’ মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে এই ত্রি-আর বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।