blog-img
৯০ মিনিটেই মিলিয়নিয়ার কেপ ভার্দের গোলরক্ষক!
15 hours ago
2.2 K Views
0 comments
স্পেনের তারকাখচিত আক্রমণভাগের সামনে তখন যেন আস্ত এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। একদিকে লা-ফুয়েন্তের শিষ্যদের একের পর এক গোলবন্যা বইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, আর অন্যদিকে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ৪০ বছর বয়সী এক অভিজ্ঞ যোদ্ধা, ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো জায়ান্টদের বিপক্ষে কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স ছিল কোনো এক রূপকথার গল্পের মতো। ম্যাচের ৯০ মিনিট জুড়ে স্পেনের ফরোয়ার্ডরা যেন বারবার থমকে যাচ্ছিলেন ভোজিনিয়ার গ্লাভসের কাছে। অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি শুধু দলের গোলপোস্ট আগলেই রাখেননি, বরং নিজের স্নায়ুচাপ আর অবিশ্বাস্য পজিশনিংয়ের জাদু দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। ম্যাচের এক পর্যায়ে স্প্যানিশ কোচ মরিয়া হয়ে মাঠে নামালেন তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালকে। কিন্তু ১৮ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালকও অসহায় ছিলেন ভোজিনিয়ার অভিজ্ঞতার সামনে। অথচ এই দুই খেলোয়াড়ের বয়সের ব্যবধান ২১ বছরেরও বেশি। মজার ব্যাপার হলো, ভোজিনিয়ার বয়স ইয়ামালের বাবার বয়সের চেয়েও দুই বছর বেশি। ৪০ বছর ২২ দিন বয়সী এই গোলরক্ষক যেন ঘড়ির কাঁটা ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন অতীতে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে চল্লিশোর্ধ্ব কোনো গোলরক্ষকের এমন বীরত্ব আর দেখা যায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই বাঁধনহারা হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভোজিনিয়া। হাঁটু গেড়ে বসে পড়া সেই মানুষটির চোখের জলে ছিল লড়াইয়ের ক্লান্তি আর সাফল্যের আনন্দ। গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শকরা শুধু একজন ফুটবলারকে দেখলেন না, দেখলেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক প্রতিচ্ছবি। আর মাঠের বাইরে? ম্যাচের শুরুর আগে যার ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ার ছিল পঞ্চাশ হাজারের নিচে, ম্যাচ শেষের ৯০ মিনিটেই তার নামের পাশে যোগ হলো মিলিয়ন ফলোয়ারের মাইলফলক। একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়েই রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের নতুন মহাতারকা হয়ে উঠলেন ভোজিনিয়া।

Comments 0

Your Comment