ইউরো ট্রফিই আমার কাছে বিশ্বকাপ: রোনালদো
13 hours ago
4.8 K
Views
0
like
share
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ট্রফিটি ছোঁয়া হলো না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে অপূর্ণই থেকে গেল এই মহাতারকার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। তবে বিশ্বমঞ্চের এই চরম ব্যর্থতা নিয়ে আক্ষেপ নেই রোনালদোর; বরং ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়কেই তিনি বিশ্বকাপের সমান মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করেন।
ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই নকআউট ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে প্রথমার্ধে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে পরীক্ষা নেওয়া একটি দুর্বল শট ছাড়া মাঠের বাকি সময় তাকে খুব একটা চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে, স্টপেজ টাইমের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়। এই পরাজয়ের মাধ্যমেই নিশ্চিত হলো, রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপটি এখানেই শেষ হলো।
সাফল্যে মোড়ানো ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে না পারার বড় এক শূন্যতা সঙ্গী হলেও ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে বেশ সাবলীল ছিলেন রোনালদো। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের কন্টিনেন্টাল সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের হয়ে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। ওই ট্রফিটি আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রায় ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০১৬ সালের ইউরো কাপ ছাড়াও ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছেন রোনালদো। তবে ক্লাব ফুটবলে রাজার মতো রাজত্ব করলেও বিশ্বকাপে তার সুখস্মৃতি নেই বললেই চলে। ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলাই ছিল বিশ্বমঞ্চে তার সর্বোচ্চ দলগত অর্জন। এরপর আর কখনো শেষ চারে পা রাখতে পারেনি পর্তুগিজরা।
নিজের ক্যারিয়ারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক কিংবদন্তি আরও বলেন, ‘আগামীকাল আমি একদম পরিষ্কার বিবেক নিয়ে ঘুম থেকে উঠব। কারণ আমি নিজের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি। আমার অভিষেকের আগে পর্তুগাল কোনো শিরোপাই জেতেনি, কিন্তু আমি তাদের তিনটি শিরোপা (২০১৬ ইউরো, ২০১৯ ও ২০২৫ নেশনস লিগ) উপহার দিয়েছি।’
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই পর্তুগালের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ কি না, এমন প্রশ্নে অবশ্য সরাসরি কোনো উত্তর দেননি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে রোনালদো বলেন, ‘আমি আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। আমি খেলা চালিয়ে যাব কি না, তা এই মুহূর্তে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়।’