রাতের ইডেন দেখল হেনরিখ ক্লাসেনের ঝড়। খাদের কিনারা থেকে একাই প্রায় জিতিয়ে দিয়েছিলেন হায়দ্রাবাদকে। কিন্তু শেষ ওভারে বদলে গেল সব। হর্ষিত রানার একটা ওভার জিতিয়ে দিল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। নায়ক হতে গিয়েও হতে পারলেন না ক্লাসেন। মাঠে থাকা শাহরুখ খানের হাসি মিলিয়ে গিয়েছিল বেশ কিছু ক্ষণের জন্য। তা আবার ফিরল হায়দ্রাবাদের ২০ ওভার শেষ হওয়ার পর। আগে ব্যাট করে কলকাতার তোলা ২০৮-৭ রানের জবাবে ২০৪-৭ স্কোরে থেমে গেল হায়দ্রাবাদের ইনিংস। কলকাতার প্রথম চমকটা ছিল ওপেনিং জুটিতেই। শুক্রবার পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল বেঙ্কটেশ আয়ারের সঙ্গে ফিল সল্ট বা রহমানুল্লাহ গুরবাজ়‌ের মধ্যে কেউ ওপেন করতে পারেন। ম্যাচের আগে টিম হাড্‌লে সল্টের হাতে টুপি তুলে দেওয়ায় নিশ্চিত হওয়া গেল তিনিই খেলছেন। কিন্তু কলকাতা ব্যাট করতে নামার সময়েই চমক। সল্টের সঙ্গে যিনি এগিয়ে আসছিলেন ক্রিজ়‌ের দিকে, তিনি বেঙ্কটেশ নন, সুনীল নারাইন। অতীতে তাকে ফাটকা হিসাবে ওপেনিংয়ে খেলানো হয়েছে। কিন্তু আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই পরীক্ষা কেন? যা হওয়ার ছিল তাই হল। নারাইন কোনও অবদান রাখতেই পারলেন না। উল্টে নিরামিষ একটা বলে রান আউট হলেন। সল্ট অনেক আগেই রান নেবেন না জানিয়েছিলেন। তত ক্ষণে নারাইন মাঝ পিচে। সবচেয়ে বড় কথা, ফিল্ডার বল ছোড়ার আগে ক্রিজ়ে ফেরার আগ্রহ টুকু পর্যন্ত দেখালেন না। হেলতে-দুলতে ফিরতে গেলেন। শাহবাজ় আহমেদের থ্রো সরাসরি উইকেট ভেঙে দিল। এর পর কলকাতা দলে আয়ারাম-গয়ারামদের মিছিল। বেঙ্কটেশ তিনে নামলেন। উল্টো দিকে সল্ট আগ্রাসী খেলতে থাকা সত্ত্বেও নিজে অনাবশ্যক ঝুঁকি নিতে গেলেন। নটরাজনের বলে যে শটটি খেললেন তার কোনও দরকার ছিল না। সোজা গেল মার্কো জানসেনের হাতে। পর পর দুটো উইকেট পড়ায় দরকার ছিল এমন একজনের নামার যিনি ধরে খেলতে পারেন। নীতীশ রানাকেই নামানো যেত। এখানেই ভুল করল কলকাতা। নামলেন শ্রেয়স আয়ার। দ্বিতীয় বলেই তাড়াহুড়ো করে ছয় মারতে গেলেন। কভারে ক্যাচ ধরতে প্যাট কামিন্সের কোনও অসুবিধাই হল না।