অফুরন্ত কল্যাণের মাস পবিত্র মাহে রমজান। কোনো মুমিন এই মাসকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে, তার জীবনের সব গুনাহ মাফের ঘোষণা আছে। তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। নিম্নে পবিত্র মাহে রমজানের সৌভাগ্যের দ্বার অতিক্রম করার আমলগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো— গুরুত্বসহকারে রোজা রাখা : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমজানের সিয়াম ব্রত পালন করে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৮) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে যত্নবান হওয়া : আমর ইবনু সাঈদ ইবনুল আস (রা.) বলেন, আমি উসমান (রা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো মুসলিমের যখন কোনো ফরজ নামাজের ওয়াক্ত হয় আর সে উত্তমরূপে নামাজের অজু করে, নামাজের নিয়ম ও রুকুকে উত্তমরূপে আদায় করে, তাহলে যতক্ষণ না সে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হবে তার এই নামাজ তার পেছনের সব গুনাহর জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান। (মুসলিম, হাদিস : ৪৩১) রাত জেগে ইবাদত করা : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রাতে ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৭) কারো কারো মতে এখানে রাত জেগে ইবাদত দ্বারা উদ্দেশ্য তারাবির নামাজ। বেশি পরিমাণে সদকা করা : ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) সর্বাপেক্ষা বেশি দানশীল ছিলেন। তাঁর দানশীলতা বহুগুণ বর্ধিত হতো রমজানের পবিত্র দিনে যখন জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন। জিবরাইল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করে কোরআনের সবক দিতেন। রাসুল (সা.) কল্যাণ বণ্টনে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫৪) রোজাদারকে ইফতার করানো : জায়েদ ইবনে খালিদ আল জুহানি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পায়। কিন্তু এর ফলে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭) বেশি পরিমাণে কোরআন তিলাওয়াত করা : আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সিয়াম এবং কোরআন বান্দার জন্য শাফাআত করবে।