পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এই মাসে রোজা পালন করে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫) উল্লিখিত আয়াতের ভাষ্য অনুযায়ী কোরআন সাধারণভাবে মানবজাতির জন্য পথনির্দেশক, তবে অন্য আয়াত থেকে বোঝা যায়, যারা আল্লাহভীরু তারা কোরআন দ্বারা বেশি উপকৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আলিফ-লাম-মিম, এটা এমন কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, আল্লাহভীরুদের জন্য পথনির্দেশক।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১-২) সুতরাং রমজান সুপথ লাভের মাস। তা অর্জন করতে হয় ইবাদত, বন্দেগি ও সাধনার মাধ্যমে। রমজানে মুমিন দিনে পানাহার পরিহার করে এবং রাতে ইবাদত, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে। মুমিন পৃথিবীর সব ছেড়ে আল্লাহমুখী ও একনিষ্ঠ হয়। ভাষা, বর্ণ, আঞ্চলিকতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পরিহার করে সারা বিশ্বের মুসলিমরা এক ও অভিন্ন রং ধারণ করে। তা হলো আল্লাহর রং, তাঁর আনুগত্য ও ভালোবাসার রং। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমরা গ্রহণ করলাম আল্লাহর রং, রংয়ে আল্লাহ অপেক্ষা কে বেশি সুন্দর? এবং আমরা তাঁরই ইবাদতকারী।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৩৮) সে রং তার মধ্যে তৈরি হয় আত্মার পরিশুদ্ধি ও মানুষের প্রতি সহমর্মিতা লাভের মাধ্যমে।