পবিত্রতায় ঢাকা ঈদুল ফিতর
পবিত্রতায় ঢাকা ঈদুল ফিতর
Ajker highlights
প্রকাশ:
ঈদ শব্দটি আরবি ‘আওদুন’ থেকে এসেছে- যার অর্থ ফিরে আসা, বারবার আসা। ধর্মীয় পরিভাষায় ঈদ বলতে আমরা পবিত্রতার মোড়কে ঢাকা উৎসব বুঝি। ফিতর অর্থ ফাটল, ভাঙন, ভাঙা ইত্যাদি। এক কথায় ঈদুল ফিতর অর্থ হলো- রোজা ভাঙার উৎসব। সুদীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহর নির্দেশে আমরা শাওয়ালের প্রথম দিন রোজা ভঙ্গ করি, তাই এ দিনটির নাম ঈদুল ফিতর। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদিন সম্পর্কে বলেছেন, ‘এই দিনটিতে তোমরা রোজা রেখো না। এদিন তোমাদের জন্য আনন্দ-উৎসবের দিন। খাওয়া আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ-উৎসব করার দিন। আল্লাহকে স্মরণ করার দিন।’ মুসনাদে আহমদ, ইবনু হিববান। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গেলেন। তিনি মদিনায় এসে দেখলেন মদিনাবাসী পারসিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বসন্তের পূর্ণিমা রাতে ‘মেহেরজান’ আর হেমন্তের পূর্ণিমা রাতে ‘নওরোজ’ নামক উৎসবে এমনসব আমোদ-প্রমোদে মেতে উঠত; যা কোনো সুস্থ বিবেকবান লোকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তিনি মদিনাবাসীকে ডেকে বললেন, ‘আল্লাহ এ দুটি দিনের পরিবর্তে অন্য দুটি দিন তোমাদের আনন্দ উৎসব পালনের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার একটি হলো ঈদুল ফিতর অন্যটি ঈদুল আজহা। তোমরা পবিত্রতার সঙ্গে এ দুটি ঈদ বা উৎসব পালন করবে।’ আবু দাউদ, নাসায়ি। সেই থেকে মুসলিম উম্মাহ যথারীতি প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছে। এ হিসাবে এ বছরও মহান রব্বুল আলামিনের ইচ্ছায় আমরা পবিত্র ঈদুল ফিতর আদায় করব। ঈদ উদযাপন করব ইসলামী শরিয়তের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদিনরা যেভাবে ঈদ উদযাপন করেছেন, আমরাও তাঁদের মতো ঈদ উৎসব করব ইনশা আল্লাহ। ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেছেন, ‘রসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ঈদের দিন (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।’ বুখারি। ঈদের নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।’-ইমাম মালিক।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।