blog-img
হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে চায় সৌদি আরব
43 minutes ago
5 K Views
0 comments

ইরানের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। বিনিময়ে সৌদি ভূখণ্ডে সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে হুথিদের। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।


প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তেহরানে আয়োজিত এক গোপন বৈঠকে অংশ নেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের মাধ্যমে ওই অর্থ হুথিদের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।


একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে 'হারকিউলিস' সামরিক পরিবহন বিমানে তেহরানে পৌঁছান, সেটিতে করেই ওই অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা ইসরায়েলি গণমাধ্যমের কাছে অর্থ হস্তান্তরের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের ওই বহুপাক্ষিক আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও অংশ নেন। ইরানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মহাসচিব মোহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয় তেহরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানিও বিঘ্নিত হয়।


সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেহরান সফরের বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর চলমান সংকটে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানে উৎসাহ দেওয়া এবং কাতার ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য জোটের চলমান উদ্যোগের অংশ।'


ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, তেহরানের এ বৈঠকের মধ্য দিয়েই 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের' প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এর আগের সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এই উদ্যোগের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে ইরান নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে।


এদিকে সৌদি এক কর্মকর্তা অর্থ দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত না করলেও জানান, তিন বছর আগে হুথিদের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়েই মূলত বিরোধ তৈরি হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, বিরোধ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে সৌদি আরবের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। বিনিময়ে হুথিরা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবে।


তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হুথিরা অভিযোগ তুলছে যে রিয়াদ আগের সমঝোতা থেকে সরে এসেছে। এই যুক্তি দেখিয়ে তারা পুনরায় সৌদি আরবে হামলার হুঁশিয়ারি দেয়। অন্যদিকে সৌদি আরবের স্পষ্ট অবস্থান—দেশটি কোনো ধরনের 'সামরিক ব্ল্যাকমেইলের' মুখে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যাবে না। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে দখল করা ভূখণ্ড হুথিরা ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের অর্থ ছাড়ের ঘোর বিরোধী রিয়াদ।


উল্লেখ্য, হুথিদের ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব কিংবা বিমানে করে তেহরানে অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Comments 0

Your Comment