যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বোমাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও তেলের খনিতে আগুন লাগানোর জেরে তেহরানের আকাশ ছেয়ে গেছে কালো ধোঁয়ায়। এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু ডাঙাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অনন্য সামুদ্রিক প্রতিবেশেও।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে জাহাজ এবং তেলের স্থাপনায় হামলার ফলে পানিতে প্রচুর পরিমাণে তেল মিশে যাচ্ছে। এই তেলের বিশাল স্তর এখন মহাকাশ থেকেও দেখা যায়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার উপগ্রহ সমুদ্রবিজ্ঞানী ব্রায়ান বার্নস জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে তেলের দূষণ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো থেকে নির্গত তেলের স্তর শত শত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।
পারস্য উপসাগর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য এক অনন্য স্থান। সামুদ্রিক কাছিম, শত প্রজাতির মাছ, বিরল ডুগং (সি-কাউ) এবং ডলফিনের জন্য এটি আদর্শ আবাসস্থল। যুদ্ধের কারণে এই বিরল প্রাণীদের জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, একবার এই প্রতিবেশ ধ্বংস হলে তা হয়তো আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না।
পারস্য উপসাগরের গভীরতা কম এবং এর একটাই প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ থাকায় দূষণ সহজে দূর হয় না। এই দূষণের প্রভাব শুধু প্রাণীদের ওপরই নয়, মানুষের ওপরও পড়তে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষ পানীয় জলের জন্য এই সমুদ্রের পানির ওপর নির্ভরশীল। তেল দূষণের কারণে সমুদ্রের পানিকে বিশুদ্ধ করার প্ল্যান্টগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা মারাত্মক পানি সংকটের কারণ হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী ১০০ বছরে পৃথিবীর সমুদ্রগুলোর অবস্থা কেমন হতে পারে, তা বোঝার জন্য পারস্য উপসাগর একটি প্রাকৃতিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার। কিন্তু চলমান সংঘাত ও দূষণের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।