‘হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, জাহাজ চলছে গোপন সহায়তায়’
15 hours ago
1.8 K
Views
0
like
share
হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী গোপনে প্রণালীটি দিয়ে ২০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। এই তৎপরতার কারণেই বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে।
গতকাল বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘এই অভাবনীয় সফলতার কারণ হলো হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ইরানের নয়। তাদের সামরিক বাহিনী পরাজিত হয়েছে, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
এর আগে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তৎপরতার কারণেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের ওপরে না গিয়ে প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও সংঘাত-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক কম। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের পণ্য কৌশল বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান হেলিমা ক্রফট সিএনবিসিকে বলেন, প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহণের সুযোগ পাচ্ছে না।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার আগে বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এদিকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকরা গত সপ্তাহে বলেন, প্রকাশ্যে যা দেখা যাচ্ছে তার চেয়ে বেশি তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে। তাদের অনুমান, যেসব ট্যাংকার তাদের ‘ট্রান্সপন্ডার’ বা অবস্থান সনাক্তকারী যন্ত্র বন্ধ করে রেখেছে, সেগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ হচ্ছে।
গত মে মাসে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ ঘোষণা করেছিলেন। যার উদ্দেশ্য ছিল, পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া তেলবাহী জাহাজগুলোকে সহায়তা করা। পরে কর্মসূচিটি স্থগিত করা হলেও মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, নৌবাহিনী গোপনে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
তবে একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো জাহাজকে পাহারা দিয়ে সাহায্য করছে না। বরং হরমুজ প্রণালী নিরাপদে অতিক্রম করতে চাওয়া জাহাজগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করছে।