হরমুজের বিকল্পে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ে সচলে তুরস্ক-সৌদি উদ্যোগ
12 hours ago
4.6 K
Views
0
like
share
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বহু পুরনো এক স্বপ্নকে নতুন করে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে তুরস্ক ও সৌদি আরব। ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে দুই দেশ সমঝোতা স্মারকে সই করেছে, যা ভবিষ্যতের আঞ্চলিক বাণিজ্য মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
মঙ্গলবার পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ও লজিস্টিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে আঙ্কারা ও রিয়াদ। এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বিকল্প বাণিজ্য করিডোর গড়ে তোলা।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তুরস্ক-সৌদি যৌথ এই প্রকল্পকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলপথটি তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান হয়ে সৌদি আরবকে সংযুক্ত করবে।
চুক্তি সইয়ের জন্য তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আব্দুলকাদির উরালোলু রিয়াদ সফর করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবহন খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করাকে তিনি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তুরস্ক ইতোমধ্যে সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাকের মধ্য দিয়ে এই করিডোর সচল করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে তুরস্ক থেকে ইরাক হয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত দুটি ট্রেন চালিয়ে এই রুটের সম্ভাবনাও যাচাই করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে এই রেলপথ ওমান এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের চিন্তাও রয়েছে। সফল হলে তুরস্ক উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবে পরিণত হতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবে হেজাজ রেলওয়ে ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। ১৯০০ সালে সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই রেলপথ ইস্তাম্বুল থেকে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মুসলিম বিশ্বের অনুদানে নির্মিত এই রেললাইন একসময় হজযাত্রীদের যাতায়াত সহজ করেছিল।
তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে রেলপথটি অচল হয়ে পড়ে। প্রায় এক শতাব্দী পর নতুন বাস্তবতায় আবারও এই ঐতিহাসিক রুটকে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলো, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।