হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা কমাতে কাতারে আমেরিকার গোপন চেষ্টা
11 hours ago
4.2 K
Views
0
like
share
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা চলছে। এই উত্তেজনা কমাতে আমেরিকার প্রতিনিধি দল কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের সাথে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে। সরাসরি কোনো বৈঠক না হলেও তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সিআইএ-র সাবেক কর্মকর্তা স্কট উইলিঙ্গার জানান, ভবিষ্যৎ সংকট এড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কারিগরি আলোচনাকে ব্যবহার করছে।
ইরান বর্তমানে কূটনৈতিক কৌশলে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন চুক্তির মাধ্যমে এই প্রণালিতে ইরানের আসল ভূমিকা কী, তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন আশা করছে, কাতার ও অন্যান্য আরব দেশগুলোর সাথে মিলে একটি নতুন জোট তৈরি করা যাবে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া চুক্তিতে জলপথের সেবামূল্যের ওপর কেবল ৬০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
গালিবাফ স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘এটি আমাদের নিজস্ব জলসীমা। যুক্তরাষ্ট্র যাতে দাবি করতে না পারে যে ইরান এই জলপথকে সামরিকীকরণ করেছে, আমরা তাদের সেই সুযোগ দেব না।’
তিনি কোনো অবস্থাতেই এই অবস্থান থেকে পিছু না হটার ঘোষণা দেন। এই জলপথকে সৃষ্টিকর্তার দেওয়া একটি উপহার এবং ইরানের ‘শক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গত মাসে হওয়া চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন এই পথ দিয়ে কোনো খরচ ছাড়াই নিরাপদে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। জাহাজ চলাচলের সুবিধার জন্য আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরান নিজ দায়িত্বে এই পথ থেকে সব মাইন বা বিস্ফোরক সরিয়ে ফেলবে। এছাড়া ভবিষ্যতে এই জলপথ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা ঠিক করতে ইরান প্রতিবেশী ওমানসহ অন্যান্য দেশের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।