ঘটনাটি ভারতের। দেশটির সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলোর অন্যতম আইসিআইসিআই ব্যাংকের প্রতরণার ঘটনা এটি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই ব্যাংকের একজন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ১৬ কোটি ভারতীয় রুপি বা ১৯ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ কোটি ৮৭ লাখ টাকারও বেশি) প্রতারণার মাধ্যমে চুরি করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক গ্রাহক। শ্বেতা শর্মা নামে ওই গ্রাহকের অভিযোগ, একটি ফিক্সড ডিপোজিটে জমা করার জন্য তার যুক্তরাষ্ট্রের একাউন্ট থেকে ওই ব্যাংকে ১৯ লাখ মার্কিন ডলার স্থানান্তর করেন তিনি। কিন্তু ওই ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা তার স্বাক্ষর নকল করে একটি ভুয়া একাউন্ট খোলেন। তারপর শ্বেতার নামে একটি ডেবিট কার্ড এবং চেকবই তোলেন। তা ব্যবহার করে তিনি একাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নিতে থাকেন। শ্বেতা শর্মার ভাষায়, ওই কর্মকর্তা আমাকে ভুয়া ব্যাংক বিবরণী পাঠাতেন। আমার নামে একটি ভুয়া ইমেইল আইডি খুলেছিলেন। ব্যাংক রেকর্ডে আমার মোবাইল নাম্বার ম্যানিপুলেট করেছেন। ফলে একাউন্ট থেকে যে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে এ সম্পর্কে আমি কোনও নোটিফিকেশন পাইনি। ব্যাংকটির এক মুখপাত্র প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, আইসিআইসিআই একটি স্বনামধন্য ব্যাংক। এই ব্যাংকটি লাখ লাখ ভোক্তার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন রুপি জমা রাখে। এ ঘটনায় যিনি দায়ী তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও হংকংয়ে কয়েক দশক বসবাস করেন শ্বেতা শর্মা ও তার স্বামী। এরপর ২০১৬ সালে ভারতে ফিরে আসেন এই দম্পতি। এ সময় একজন বন্ধুর মাধ্যমে একজন ব্যাংকারের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে সুদের হার যেহেতু খুব সামান্য, তাই শ্বেতার স্বামী তাকে বুদ্ধি দেন অর্জিত অর্থ ভারতে স্থানান্তর করতে। কারণ, ভারতে সুদের হার শতকরা ৫.৫ থেকে ৬ ভাগ পর্যন্ত। ২০১৯ সালে দিল্লির কাছে পুরনো গুরুগ্রামে আইসিআইসিআই-এর একটি শাখায় স্বামীর বুদ্ধিতে অনাবাসিক ভারতীয়দের জন্য এনআরই একাউন্ট খোলেন শ্বেতা। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে তার একাউন্ট থেকে এই একাউন্টে অর্থ পাঠাতে থাকেন।