যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক ভাষণে তিনি ঘোষণা দেন, কানাডাও আমেরিকান পণ্যের ওপর ২৫% পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। ভাষণে ট্রুডো বলেন, টিম কানাডা, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ, উপকূল থেকে উপকূলে।" তিনি কানাডার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, স্থানীয় পণ্য কেনার পাশাপাশি ভ্রমণের জন্য দেশীয় দর্শনীয় স্থানগুলো বেছে নিতে। ট্রুডোর ঘোষণার ফলে ১৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমেরিকান পণ্য বিশেষ করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যগুলোর ওপর ২৫% শুল্ক বসবে। কানাডার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুধু কানাডার পণ্য নয়, মেক্সিকোর পণ্যেও ২৫% এবং চীনের পণ্যেও ১০% শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশেষভাবে কানাডার তেল আমদানির ওপর ১০% শুল্ক বসানো হয়েছে, যা মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। এই শুল্কের ফলে কানাডার ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কানাডার চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রির হিসাব অনুযায়ী- এই শুল্কের কারণে কানাডার অর্থনীতির জিডিপি ২.৬% সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া, কানাডার সাধারণ নাগরিকদের বার্ষিক খরচ প্রায় ১৯০০ ডলার বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ওপরও এই শুল্কের প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত, তাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ট্রুডোর এই পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে দেশটির জনগণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রুডোর এই সাহসী পদক্ষেপ তার নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রমাণ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।