যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত- এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানি সূত্রগুলো।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানি সূত্রগুলো ওই প্রতিবেদনকে সঠিক নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কমানো ও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত তেহরান নেয়নি।
এর আগে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও জাপানের কিয়োদো নিউজ এজেন্সি পৃথক প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত ইরান।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান আগ্রহী।
তেলের দামে পতন নিয়ে ইরানের সতর্কতা
তবে রয়টার্স ও কিয়োদোর প্রতিবেদনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছে ফার্স নিউজ।
ইরানি সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের খবর প্রকাশের ফলে তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে ইরানি কর্মকর্তাদের এ ধরনের বর্ণনা বা খবর প্রকাশের সম্ভাব্য পরিণতি এবং তেলবাজারে এর প্রভাব সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে ইরানি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে ইরানি কর্মকর্তাদের এসব বয়ান প্রকাশের পরিণতি এবং তেলবাজারে এর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক ও বিচক্ষণ থাকতে হবে।”
অর্থাৎ, ইরানি সূত্রগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ পেলে সেটি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে এবং এর প্রভাব তেলের দামে পড়তে পারে।
মুখোমুখি দুই ধরনের তথ্য
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই অস্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এর আগে রয়টার্স ও কিয়োদো উভয়েই একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছিল।
রয়টার্স ও কিয়োদোর প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে তেহরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে।
অন্যদিকে ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে ইরানি সূত্রগুলো সেই বক্তব্যের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে এসেছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই সরু নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তেলজাত পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং তেলের দামে দ্রুত প্রভাব পড়তে পারে। বিপরীতে প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনার খবর বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে- এমন প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে।
এই কারণেই হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ থাকার বিষয়ে ইরানের যেকোনও ঘোষণা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে তাই তেহরান সত্যিই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার কোনও শর্ত দিয়েছে কি না, নাকি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে- সেটিই এখন দেখার বিষয়।