আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে উৎখাত করতে তৈরি হয়েছে বিরোধীদলের জোট 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স' (ইন্ডিয়া)। প্রায় ২৮ টি দলের সমন্বয়ে তৈরি এই জোটে রয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, আম আদমি পার্টি, এনসিপি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআইএম'এর মতো দলগুলি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে একাধিকবার বৈঠকে বসেছে জোটের নেতারা। বৈঠকে জোটের চেয়ারপার্সন মনোনীত হলেও আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যস্তরে বিভিন্ন দলগুলির মধ্যে আসন ভাগাভাগি অর্থাৎ রাজ্যগুলিতে কে কতগুলি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করবে তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জোটের শরিক দলগুলি। বিষয়টি নিয়ে চরম মতানৈক্য দেখা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। কংগ্রেস এবং তৃণমূল- ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক দল হলেও নিজেদের অনমনীয় মনোভাবের কারণে বাংলায় কে কয়টি আসনে লড়বে তা এখনো স্থির হয়নি। এমন অবস্থায় এ রাজ্যে একা লড়াই করতে পারে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের ৪২টি লোকসভার আসনেই তারা প্রার্থী দিতে পারে বলে জানা গেছে। দুদিন আগেই রাজ্যটির বীরভূম জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক হয়। রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে দলের নেতৃত্বকে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি মাথায় না রেখে, একা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এ ব্যাপারে জেলার এক তৃণমূল নেতা বলেন, 'আমাদের দলনেত্রী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে কংগ্রেসের সাথে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নিয়ে যেন কোন রকম চিন্তা ভাবনা না করি। কংগ্রেসকে ২টি আসন ছাড়ার অফার দিয়েছে তৃণমূল, যদিও কংগ্রেস ১০ থেকে ১২ টি আসনের দাবি করেছে।' গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং সিপিআইএম জোট বেঁধে লড়াই করলেও একটি আসনেও জয় পায়নি তারা। এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২ টির মধ্যে মাত্র ২ টি আসনে জয় পায় কংগ্রেস, ১৮ টি আসনে জয় পায় বিজেপি, তৃণমূল পায় ২২ টি আসন। আর তা থেকেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে দুই টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ তৃণমূল।