blog-img
ট্রাম্পের কি ঘরের ভেতরেই শত্রু?
9 hours ago
4.8 K Views
0 comments

আধুনিক মার্কিন সামরিক ইতিহাসের পাতায় এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেল। ইরান যুদ্ধ এবং অস্ত্র সংকট সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর, মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মীকে লাই ডিটেক্টর বা পলিগ্রাফ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত আগস্ট মাসে পরিচালিত এই গণপরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করার প্রবণতা রোধে সামরিক মহলে ভীতি সৃষ্টি করা।


সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের জেরে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টিবের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। 


এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই পেন্টাগন নড়েচড়ে বসে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র শোন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, অভ্যন্তরীণ বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিভাগ সাধারণত কোনো মন্তব্য করে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপনীয় তথ্য ফাঁস হওয়াকে তারা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কঠোর তদন্ত চলছে। 


গত ৫ মে থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে বিরত রয়েছেন এবং পেন্টাগনে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকারও অনেকটাই সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত মাসে পেন্টাগনের সমালোচনামূলক কভারেজের জেরে একটি সংবাদপত্রের শীর্ষ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বরখাস্ত করার ঘটনাও বেশ শোরগোল ফেলেছিল।


অস্ত্র ঘাটতির এই সমস্ত গুঞ্জন এবং প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তাদের একহাত নিয়েছেন এবং এমন প্রচারকে ‘দেশদ্রোহী’ কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।


ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার দাবিগুলো একশ শতাংশ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন। তার মতে, যারা এই ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তারা আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে পরাজিত দেখতে চায়। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন যে, আমেরিকার কাছে মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদের এক কার্যত অফুরন্ত ভাণ্ডার মজুদ রয়েছে, যা ইরান বা অন্য যেকোনো বড়সড় যুদ্ধের চাহিদার চেয়েও বহুগুণ বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক মহলে যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য উৎপাদন এবং প্রস্তুতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

Comments 0

Your Comment