যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান শিবিরে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। একের পর এক রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি দখলে নিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। দক্ষিণ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে বিরোধী দল। এর মধ্য দিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রতি জনগণের মনোভাব যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। নির্বাচনের ফলাফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ, শুল্কনীতি এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় বাধা তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ ক্যারোলিনায় শিশু চিকিৎসক ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলেইন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন। ডারলেইন ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ট্রাম্পের সমর্থনে তাকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় কয়েক দশক পর সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়কে বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলিনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে আনেন। টেক্সাসে জেমস তালারিকো ট্রাম্প-সমর্থিত কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে জয় পেয়েছেন। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।
এ ছাড়া ওহাইওতে সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান জন হুস্টেডকে হারিয়ে সিনেটে ফিরেছেন। জর্জিয়ায় জন অসফও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদেও এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী ফলাফলও রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত সাতটি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
পেনসিলভানিয়ার তিনটি আসনসহ নিউ জার্সির একটি আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। নর্থ ক্যারোলিনা ও কেনটাকিতেও নতুন আসন পেয়েছে দলটি।
বিশেষ করে কেনটাকিতে জ্যাক ডেম্বোর জয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই আসনটি দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্তিশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল।
গভর্নর নির্বাচনেও বড় সাফল্য
শুধু কংগ্রেস নয়, গভর্নর নির্বাচনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় আটলান্টার সাবেক মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
এ ছাড়া টেক্সাসে রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম লাতিনা গভর্নর হতে যাচ্ছেন। ওহাইওতে অ্যামি অ্যাকটন এবং আইওয়ায় রড স্যান্ডও গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।
জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কে ট্রাম্পের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই ফলাফল প্রশাসনের নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনে দলের পরাজয়ের দায় নিতে রাজি নন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো। তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।