নাম তার ইসরা জাবিস, বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া একজন ফিলিস্তিনি নারী। বর্তমানে তার বয়স ৩৭ বছর। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাতে দেখা যায়, তার মুখ পোড়া। তা দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ‘কীভাবে পুড়লো ইসরা জাবিসের মুখ’? আসুন জেনে নিই সেই ঘটনা। মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনের মধ্যে ইসরা জাবিস বেশ পরিচিত মুখ। তার মূল কারণ, ২০১৫ সালে জেরুজালেমের একটি চেকপয়েন্টে তার গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনি ‘তৃতীয়-ডিগ্রি দগ্ধ’ হন। পুড়ে তার শরীরের মুখ ও হাত-সহ ৬০ শতাংশ অংশ। পরবর্তীতে চিকিৎসার সময় তার দুই হাতের আটটি আঙ্গুল কেটে ফেলতে হয়। শুধ তাই নয়, ইসরা জাবিস তার দুই হাত উপরে তুলতে পারেন না। কারণ পুড়ে যাওয়ায় তার হাতের বাহুর নিচের অংশে ত্বক একসাথে আটকে গেছে। তার ডান কান প্রায় নেই বললেই চলে। দগ্ধ হওয়ার পর তার নাকের একপাশে একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তিনি নাক দিয়ে ঠিক মতো নিঃশ্বাসও নিতে পারেন না। বেশিরভাগই সময়ই তাকে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি গুরুতর মানসিক সংকটেও ভুগছেন। পরিস্থিতি এমন যে, তিনি দৈনন্দিনের প্রয়োজনীয় কাজ যেমন- খাওয়া, বাথরুম ব্যবহার করা বা এমনকি তার পোশাক পরিবর্তনও নিজে থেকে করতে পারেন না। কিন্তু কেন ঘটে ওই বিস্ফোরণ? গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তার গাড়িরর সিলিন্ডারটির বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় ইসরায়েলি একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়। এতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ইসরায়েল। এতে তার ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়।