যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট। আঞ্চলিক ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, ইরানের সঙ্গে পুরোদস্তুর যুদ্ধ বাধলে জরুরি ভিত্তিতে সরকার গঠন করা নেতানিয়াহুর জন্য সহজ হবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলা বন্ধের বিষয়ে এই আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।


আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ট্রাম্পকে দ্রুত ও ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করছেন। তবে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। গত রোববার ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘খুব ভালো’ ফোনালাপের কথা জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা এ ধরনের হামলার তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের আশঙ্কা, এতে এই অঞ্চলে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে এবং ইয়েমেনের হুতি ও ইরাকের মিলিশিয়ারা সৌদি আরব ও লোহিত সাগরে হামলা বাড়াতে পারে। 


ইরানও জানিয়েছে যে তারা কূটনীতি ও যুদ্ধ—উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশের সামরিক প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও ভৌগোলিক সীমানাবিহীন জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে পাওয়া বার্তার পর যুক্তরাষ্ট্রের সুরে ‘পুরোপুরি পরিবর্তন’ দেখা যাচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন ইরান, ওমান ও সৌদি আরবে বিশেষ দূত পাঠানোর কথা জানিয়েছে।